ইরান জানে মার্কিনের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হয়: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

তেহরানের ইনকিলাব চত্বরে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
তেহরানের ইনকিলাব চত্বরে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় প্রতিশোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, শত্রুরা আমাদের ওপর অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা চালাতে চায়। কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব হাতিয়ার রয়েছে। বড় বিষয়, আমরা জানি তাদের সঙ্গে কীভাবে এই খেলা খেলতে হয়। খবর রয়টার্সের।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপগুলো ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, নতুন এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির ‘মূল চালিকা শক্তি’ বিচ্ছিন্ন করে দেবে।

এরই জবাবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে মাদানিজাদেহ বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা এখন শুধু আত্মরক্ষামূলক নয়; বরং শত্রুদের হামলা করার জন্যও।’ তিনি আরও বলেন, চীন ও রাশিয়া তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) এসব ব্যবস্থা ‘মেনে নেয়নি’। অন্যান্য দেশও এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে, আশা মাদানিজাদেহের।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানান, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হবে। কোন কোন দেশকে লক্ষ্য করে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে এবং এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কবে কার্যকর হবে, তা জানাননি তিনি। বেসেন্টের ভাষ্য, নতুন নির্দেশনা মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হবে।

তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এ তালিকায় ইরানের তেল-বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগ থাকা চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই।

এর আগে ইরান হুমকি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিলে সামরিক জবাব দেওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও কমিয়ে দেওয়া হবে। ওই নিষেধাজ্ঞার পরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি জানান, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও জ্বালানি সরবরাহের পথগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানা হবে।

জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তিতে সই করেছিল। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’ নামে পরিচিত ওই উদ্যোগ দ্রুত ভেস্তে যায়। তবে এতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনায় তারা ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ করেছে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বিবৃতিতে জানায়, সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইরানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে তেহরান সফরে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এক্স পোস্টে বলেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট তাঁর সরকারের অবস্থান খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেছেন এবং আলোচনার বিষয়ে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত গঠনমূলক মতবিনিময় হয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংঘাত নিরসনের চাপে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্যই দেশটি আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর নির্ভর করছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবু এসব নিষেধাজ্ঞায় দেশটির নেতৃত্ব তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননের হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। এরই মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান এখনো উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজকে হুমকিতে ফেলতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার দিনটিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে– এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত