যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৪ বছরের বেশি থাকতে না দেওয়ার নীতি আদালতে স্থগিত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে। ছবি: সংগৃহীত
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক, অধ্যাপক ও বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা কমানোর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি আটকে দিয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের এক ফেডারেল বিচারক।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ নীতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই গতকাল সোমবার এটি স্থগিত করে দেন বিচারক এফ. ডেনিস সেলার।

২০২৫ সালের আগস্টে প্রস্তাবিত ওই ভিসা নীতি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করার কথা ছিল। এতে বিশেষ করে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়তেন। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একই স্তরে দ্বিতীয় ডিগ্রি নেওয়া, পড়াশোনার বিষয় পরিবর্তন করা কিংবা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব ছিল।

বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন নির্ধারণ করার কথা ছিল। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকেরা মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারতেন। তবে আবেদন অনুমোদনের বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করত। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকত না।

ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার চতুর্থ এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। তাঁকে আদালতে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ।

৪৮ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক বলেন, নীতিটি চালুর পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া যুক্তি ছিল খামখেয়ালি ও দুর্বল। তাঁর মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর ক্ষতি ‘সম্ভবত বিপর্যয়কর’ হতে পারে।

বিচারক আরও বলেন, নতুন নিয়ম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে নিরুৎসাহিত করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, শুধু নতুন নিয়ম মেনে চলার খরচই প্রথম বছরে ২৫ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নীতিটি প্রয়োজনীয়– সরকারের এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন বিচারক। তিনি বলেন, চার বছরের মেয়াদ নির্ধারণ কীভাবে ভিসা জালিয়াতি ঠেকাবে, তা প্রশাসন ব্যাখ্যা করতে পারেনি।

বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি আরও দুর্বল ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিচারকের ভাষ্য, সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়মের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা বা জালিয়াতির কোনো প্রমাণই দেয়নি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।

বিচারক সেলার বলেন, সরকারের যুক্তিগুলোর দুর্বলতা দেখে প্রশ্ন ওঠে, নীতিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য জাতীয় নিরাপত্তা নয়; বরং একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হতে পারে।

নীতিটির বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত