গাজায় ইসরায়েলি বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ধস, শিশুসহ নিহত ১৬
>> ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন শতাধিক ফিলিস্তিনি
স্ট্রিম ডেস্ক

গাজা উপত্যকার গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সাততলা ভবন ধসে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১০০ জন আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আল-জাজিরাকে বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চলছে। এখন পর্যন্ত ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি আটকা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবন ধসের ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের কান্না ও সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যায়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ফিলিস্তিনি কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করতে দেখা যায়। আরও কয়েকজন শিশু ও অন্য জীবিত ব্যক্তিকেও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটি ইসরায়েলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলায় ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল তৈরি হয় এবং কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে বুধবার রাতে সেটি ধসে পড়ে।

মাহমুদ বাসাল বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধারকাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। যন্ত্রপাতির অভাবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যাচ্ছে না।
গাজায় ভারী যন্ত্রপাতির সংকট দীর্ঘদিনের। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ রয়েছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স। ফলে উদ্ধারকর্মীদের অনেক ক্ষেত্রেই হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে।
বাসাল বলেন, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাঁবু না থাকায় অনেক ফিলিস্তিনিকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকতে হচ্ছে। এসব ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ে প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় গাজার হাজারো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। এসব ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী প্রবেশেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে বসবাস করা মানুষের জন্য ধসের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
.png)






