রুশ স্যাটেলাইটের তথ্যে হামলা চালাচ্ছে ইরান: সিএনএনের অনুসন্ধান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩১
স্ট্রিম গ্রাফিক
স্ট্রিম গ্রাফিক

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে ইরান। এসব হামলায় স্যাটেলাইট তথ্য দিয়ে রাশিয়া সহায়তা করে থাকতে পারে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

মার্কিন কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের বড় ধরনের হামলার মাত্র দুই দিন আগে সৌদি আরবের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর দিয়ে রাশিয়ার ১৪টি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট অতিক্রম করে।

সূত্রগুলোর মতে, স্যাটেলাইটগুলোর অতিক্রমের সময় ও গতিপথ এমন ছিল যে সেগুলো ঘাঁটির বিস্তৃত এলাকার ছবি ও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছিল। এসব তথ্য ইরানের হাতে পৌঁছে থাকলে তা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের অবস্থান এবং গতিবিধি সম্পর্কে তেহরানকে আরও বিস্তারিত ধারণা দিতে পারে।

এ ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে ইরান ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, রসদকেন্দ্র ও নৌ অবকাঠামোয় আরও নির্দিষ্টভাবে হামলা চালাতে পারে। তবে স্যাটেলাইটগুলোর ঘাঁটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করাই যে ইরানকে তথ্য সরবরাহের প্রমাণ, তা নিশ্চিত করেনি সিএনএন।

ড্রোনে রাশিয়া-ইরান প্রযুক্তি সহযোগিতা

রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ওই সময় ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করতে শুরু করে।

পরে রাশিয়া ইরানের নকশায় তৈরি এসব ড্রোন নিজ ভূখণ্ডে উৎপাদনের লাইসেন্স নেয়। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাশিয়া ড্রোনগুলোর নকশা ও প্রযুক্তিতেও বিভিন্ন পরিবর্তন আনে। নতুন ইঞ্জিন, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রযুক্তি যুক্ত করে শাহেদ ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ড্রোনটির জেটচালিত ‘গেরান’ সংস্করণও তৈরি করেছে রাশিয়া।

ইরানের শাহেদ ড্রোন। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
ইরানের শাহেদ ড্রোন। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে রাশিয়া শাহেদ ড্রোন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) বলেছে, রাশিয়া এসব উন্নত প্রযুক্তি আবার ইরানকে সরবরাহ করে থাকলে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রযুক্তিগত আদান-প্রদানের চক্র তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ ইরানের নকশায় তৈরি অস্ত্র রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতায় আরও উন্নত হয়ে আবার ইরানের হাতে ফিরতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা

রাশিয়ার সহযোগিতা ড্রোনেই সীমাবদ্ধ নয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এক অনুসন্ধানে জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ইরানের সঙ্গে র‌্যামজেট প্রপালশন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তি সুপারসনিক ও হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি, পাল্লা ও কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।

দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ২০২৫ সালে। ওই বছর মস্কো ও তেহরান ২০ বছরের একটি কৌশলগত চুক্তি সই করে। এতে সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এপ্রিলে মার্কিন সিনেটে এক শুনানিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, তেহরানের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় রাশিয়ার সহায়তার প্রমাণ রয়েছে।

আইএসডব্লিউর সতর্কতা অনুযায়ী, রাশিয়ার স্যাটেলাইট ও লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য ইরানের হামলার সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার, রসদকেন্দ্র, গোলাবারুদ মজুতকেন্দ্র ও নৌ স্থাপনাগুলো ভবিষ্যতে আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত