জাতিসংঘের প্রতিবেদন

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাতে নিহত ৫০০ বেসামরিক নাগরিক

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৯: ০০
গত ফেব্রুয়ারীতে আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে গত অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুনের শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানে প্রায় ৫০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউনামা) প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই প্রতিবেশীর লড়াইয়ে ৪৯৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১ হাজার ২১৬ জন আহত হয়েছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাগুলোকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

ইউনামা কেবল আফগানিস্তানের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করার এখতিয়ার রাখায় পাকিস্তানের সীমান্তে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৮ জুন পূর্ব আফগানিস্তানের পাক্তিয়া প্রদেশে একটি আবাসিক ভবনে পরপর বিমান হামলায় ৫ শিশুসহ ২২ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১৮৫ জন আহত হন। অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটে দ্বিতীয় বিমান হামলার সময়। ওই সময় প্রথম হামলার শিকার মানুষদের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইউনামার মানবাধিকার বিষয়ক পরিচালক ফিওনা ফ্রেজার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে প্রথম সাড়াদানকারী এবং মানবিক সহায়তাকর্মীদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তাদের ওপর হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা এই লড়াই গত ফেব্রুয়ারিতে মারাত্মক রূপ নেয়। ওই সময়ে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাবে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আক্রমণ চালায়। এরপরই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করে।

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের সরকার তাদের দেশে হামলা চালানো জঙ্গিদের, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে। তালেবান সরকার টিটিপির মিত্র হলেও তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি বিমান হামলায় শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউনামার প্রতিবেদনের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, তালেবান সরকার এখনো জঙ্গি সংগঠনগুলোর জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় রেখেছে।

তবে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি দেশটি। দেশটির দাবি, সামরিক হামলাগুলো কেবল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলার জন্য দায়ী সন্ত্রাসী আস্তানা ও তাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত