জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন তারেক রহমান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৯: ২৭
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে চলমান গ্যাস সরবরাহ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এক ফোনালাপে এই আলোচনা হয়।

ফেসবুক পোস্টে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি ও বিনিয়োগের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর পোস্টে আরও জানান, বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহের এ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের কথা হয়েছে এবং তারেক রহমান মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।

এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আজিয়াটার বিনিয়োগের অগ্রগতি এবং এমএমসি পোর্টের সঙ্গে সম্ভাব্য কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে, আজ সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সোমবার আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মঙ্গলবার সেই চিঠি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে এই সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এলএনজি সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো ও পেট্রোলিয়াম পণ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যার মধ্যে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার সরাসরি এলএনজি নিয়ে আলোচনা চালানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দিতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ, অন্যথায় কোনো ফর্মে সহযোগিতা করবেন তা জানাবেন।’

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মহেশখালীর বিকল টার্মিনালের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির আঞ্চলিক পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজ সকালে জ্বালানি বিভাগের বৈঠক হয়েছে।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুনের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে।আগুনে টার্মিনালের বিদ্যুৎ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্য বহনকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা মেরামতে কাজ করছেন।

এছাড়া, আজ জাপানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও জ্বালানি সহযোগিতা ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত