ইরান-চীন সম্পর্কে হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ২৮
চীনের বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে উড়ছে চীন ও ইরানের জাতীয় পতাকা। ছবি : রয়টার্স
চীনের বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে উড়ছে চীন ও ইরানের জাতীয় পতাকা। ছবি : রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে চীনের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে চীন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে চীন। তাই এই সহযোগিতায় বাধা দেওয়া উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ চাপ কোনো সমাধান নয়।’ এ ধরনের পদক্ষেপ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

লিন জিয়ান বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরান ছাড়াও অন্য দেশগুলোর বৈধ স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো, উত্তেজনা কমানো এবং যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ ও আলোচনায় ফিরে আসা। চীন নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ নিজেদের সম্পর্ককে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। ইরানের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক চীন। কম দামে জ্বালানি আমদানি ও অর্থনৈতিক লেনদেনের কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগও শক্তিশালী হয়েছে। গত বছর দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

ইরান বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে লিন বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা একতরফা সব নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে চীন। বেইজিং ইরান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, সোমবার ইরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞা অভিযান ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, তেহরানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার প্রতিটি পথ বন্ধ করাই ওয়াশিংটনের নতুন এই নিষেধাজ্ঞা অভিযানের লক্ষ্য।

চীন প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নীরব কূটনীতি। বর্তমানে বেইজিং ও ওয়াশিংটন দুই দেশের সম্পর্কের প্রত্যাশা ও অবস্থান স্পষ্ট করার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত