ভারতের আদালতে আটকে গেল স্কুলছাত্রীর হিজাব পরা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ০৩
কর্ণাটকে ২০২২ সালে ‘হিজাব’ পরার ওপর বিধিনিষেধ জারির প্রতিবাদে এলাহাবাদের প্রয়াগরাজে নারীদের বিক্ষোভ। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
কর্ণাটকে ২০২২ সালে ‘হিজাব’ পরার ওপর বিধিনিষেধ জারির প্রতিবাদে এলাহাবাদের প্রয়াগরাজে নারীদের বিক্ষোভ। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরতে চেয়েছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের এক মুসলিম শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। পরে আদালতে গিয়েও হিজাব পরার অনুমতি পায়নি ওই শিক্ষার্থী।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীর আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছেন, ‘হিজাব ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়।’

প্রয়াগরাজের একটি বেসরকারি স্কুলের ওই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে হিজাব পরে আসছিল। একই স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায় সে। স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না মেলায় ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় সে।

মায়ের মাধ্যমে করা শিক্ষার্থীর আবেদনে বলা হয়, হিজাব ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ। আগে থেকেই স্কুলে হিজাব পরে আসার বিষয়ও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের বিধিনিষেধ বিবেচনায় নিয়ে ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর ওই দাবির বিরোধিতা করে। তারা জানায়, এটি একটি বেসরকারি ও স্বনির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী রয়েছে এবং সবার জন্য একই ইউনিফর্ম কার্যকর। একজনকে আলাদা পোশাক পরার অনুমতি দিলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ইউনিফর্মের অভিন্নতা নষ্ট হতে পারে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।

আদালতের মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম নীতি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখার উদ্দেশে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানটি সেই বিধি বাস্তবায়ন করতে পারে।

স্কুলের পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থীর আবেদনের বিরোধিতা করে উত্তর প্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই)। মামলাটি শুনানি করেন বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর গত ২১ আগস্ট আদালত ওই শিক্ষার্থীর আবেদন খারিজ করেন।

শুনানিতে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন শ্রেণির ছবি পর্যালোচনা করে আদালত বলেন, তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। এমনকি একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য ছাত্রীদেরও হিজাব ছিল না। এরপরই হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবির বিষয় নাকচ করেন আদালত।

আদালত বলেছেন, এই বিষয়ে ভারতের বিভিন্ন হাইকোর্টের রায়ে অভিন্ন মত রয়েছে। নারীর হিজাব পরা ইসলামের এমন কোনো অপরিহার্য অংশ নয়, যা পালন না করলে ধর্মীয় বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবেদনে হিজাবকে অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দাবি করা হলেও, এর পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি দেখানো হয়নি বলে জানান আদালত।

স্কুলের পোশাকবিধি নিয়েও পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। আদালতের মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম নীতি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখার উদ্দেশে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানটি সেই বিধি বাস্তবায়ন করতে পারে।

আদালতের মতে, সরকার-বেসরকারি সহায়তাবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রাঙ্গণে নির্ধারিত পোশাকবিধি কার্যকর করার অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থী সেই ইউনিফর্মের সঙ্গে অতিরিক্ত পোশাক যুক্ত করার আলাদা আইনি অধিকার দাবি করতে পারে না।

আদালত আরও বলেন, ইউনিফর্ম সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা পোশাকের অনুমতি দিলে ইউনিফর্মের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। এতে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা নির্ধারণের ক্ষমতাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বদলে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর চলে যাবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত