ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে বৈঠক

যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা জেলেনস্কির

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৩০
ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: আল-জাজিরা
ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: আল-জাজিরা

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূত- স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি একথা বলেন। খবর বিবিসির।

জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের দূতদের বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম ইউক্রেন সফর করলেন উইটকফ ও কুশনার। এর আগের দিন তাঁরা মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ছবি: রয়টার্স

এই আলোচনাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অর্থবহ’ উল্লেখ করে উইটকফ জানান, আলোচনার ফল নিয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী- এখান থেকে একটি ভালো সমাধান বেরিয়ে আসবে।’ তিনি জানান, শনিবার মস্কোয় রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় ‘বেশ অগ্রগতি’ হয়েছে।

মস্কোর বৈঠক সম্পর্কে কুশনার জানান, এখন পর্যন্ত যেসব উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি, সেগুলো নিয়ে মার্কিন দল আলোচনা করেছে। পাশাপাশি কীভাবে একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি খুব ভালো সংলাপ ছিল। তিনি (পুতিন) অনেক প্রশ্ন করেছেন। আমরাও তাঁকে অনেক প্রশ্ন করেছি।’

উইটকফ জানান, কিয়েভে যাওয়ার আগে পুতিনের সঙ্গে তাদের বৈঠক করা প্রয়োজন ছিল। কারণ, পুতিনের অবস্থান কী, তা তাদের জানা দরকার ছিল।

বৈঠক শেষে জেলেনস্কি জানান, তিনি এমন একটি ন্যায়সংগত শান্তি চান, যাতে রাশিয়া ভবিষ্যতে আর ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর সুযোগ না পায়।

তিনি বলেন, ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শিগগির আবার আলোচনায় বসবেন। আলোচনা এগিয়ে নিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আহ্বান জানান তিনি।

জেলেনস্কি আরও জানান, যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত গড়ালে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহায়তা প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, যুদ্ধ সেদিকেই যাচ্ছে।’

রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় মার্কিনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ইউক্রেন। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মজুতের বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে।

গত কয়েক বছরে শীতের মাসগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর এই ব্যবস্থার উৎপাদন বাড়াবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

পোল্যান্ড পর্যন্ত উড়োজাহাজে যাওয়ার পর সেখান থেকে ট্রেনে করে কিয়েভে পৌঁছান মার্কিন দূতেরা। জেলেনস্কি জানান, সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও তাদের উড়োজাহাজ কিয়েভে অবতরণ করতে পারেনি।

কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালে উইটকফ ও কুশনারকে স্বাগত জানান জেলেনস্কি। ক্যাথেড্রালের কাছেই শুক্রবার রাশিয়ার একটি ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তরে আঘাত হানে।

এদিকে, আলোচনার সময় পুতিন ও জেলেনস্কি একে অপরের রাজধানীতে তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিলেন। তবে রাতভর রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি ও দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে।

এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া দেশটিতে ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও ছোট ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ১১টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং আরও সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।

কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়লেও পুরো সংঘাতের বেশির ভাগ সময় রুশ স্থলবাহিনী খুব ধীরগতিতে অগ্রসর হয়েছে। এতে রাশিয়ার বিপুলসংখ্যক সেনা হতাহত হয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকার বেশির ভাগ ২০২২ সালে দখল করা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের বিরুদ্ধে আকাশপথে হামলা জোরদার করার মধ্যেই এই আলোচনা হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত