জার্মানিতে কট্টরপন্থীদের নজিরবিহীন জয়

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার আভাস পেয়ে উচ্ছ্বসিত কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতারা। ছবি: ইউরো নিউজ
জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার আভাস পেয়ে উচ্ছ্বসিত কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতারা। ছবি: ইউরো নিউজ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য নির্বাচনে জয় পেয়েছে কট্টরপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এই নির্বাচনে ৭৭ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে দলটি।

এই ফলাফল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের রক্ষণশীল দলকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে এই প্রথম কট্টরপন্থীরা সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

ম্যাগডেবার্গ শহরে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির ৩৫ বছর বয়সী প্রধান প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড বলেন, ‘আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছি। জনগণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা রাজনৈতিক পরিবর্তন চায় এবং তারা আমাদের হাত ধরেই সেই পরিবর্তন চায়।’ এই বিজয়কে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এএফডি জাতীয় পর্যায়ে জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হয়ে উঠেছে। ইনসা-র সাম্প্রতিক জরিপে দলটির জাতীয় সমর্থন দেখা গেছে ২৮ শতাংশ, যেখানে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের সমর্থন মাত্র ২০ শতাংশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কোনো মন্তব্য ছাড়াই এই ফলাফলের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশের কট্টরপন্থী নেতারাও এএফডিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

জার্মানির সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি-র জরিপে দেখা গেছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের ৮৭ শতাংশ ভোটার বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট। জার্মানির অর্থনৈতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট মার্সেল ফ্রাটশার রয়টার্সকে জানান, ‘এই নির্বাচনের ফলাফল মূলত বর্তমান ফেডারেল সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের শামিল।’

মার্জ অবশ্য সতর্ক করেছেন, এএফডির এই জয়ে রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দূরে ঠেলে দেবে।

অ্যান্টনি লি নামের এক ভোটার বলেন, ‘জার্মানি এবং পশ্চিম ইউরোপে যে পরিবর্তন প্রয়োজন তা একদম স্পষ্ট। আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, এখান থেকেই সেই পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে।’

এএফডির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, ইউরো মুদ্রা ত্যাগ, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করা।

এ ছাড়া তারা স্কুলে জার্মান জাতীয় পতাকা নিয়মিত উত্তোলন, প্রতিদিন জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শরণার্থী শিশুদের জন্য আলাদা ক্লাসরুম, স্কুলে রুশ ভাষা শিক্ষা বৃদ্ধি, রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত