
হরমুজ প্রণালির বাইরে জাহাজ চলাচলে বিশেষ ‘এক্সক্লুশন জোন’ বা প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকার পরিকল্পনা করছে ইরান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, এই প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ সীমানা থেকে শুরু হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে বিস্তৃত হবে এবং সেখান থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই এলাকায় প্রবেশ করলে সেটিকে নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে জাহাজ আটক করা হবে অথবা আক্রমণ করে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। তবে সামুদ্রিক পরিবেশ বিপর্যয় এড়াতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন মহসেন রেজাই।
তিনি দাবি করেন, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করে ইরান তাদের স্বাভাবিক বাণিজ্য বজায় রাখছে।
বর্তমানে বিশের অধিক মার্কিন রণতরী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখছে। রোববার পর্যন্ত এই অবরোধে ৯২টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং ৩টিকে নিষ্ক্রিয় করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়া প্রসঙ্গে রেজাই জানান, পাকিস্তান, কাতার বা ওমানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ওপর বিশ্বাস রেখে জুনে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি লঙ্ঘন করার পরও মধ্যস্থতাকারীরা তা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইরান এখন উপযুক্ত গ্যারান্টি ছাড়া কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় যাবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সিএনএনের কাছে দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষায় প্রতিদিন গড়ে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল ও জ্বালানি হরমুজ অতিক্রম করছে। এর সঙ্গে পাইপলাইনের সরবরাহ হিসাব করলে তা সংঘাত-পূর্ব সময়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।
তথ্যসূত্র:
.png)






