ভারত সরকারের তোপে ককরোচ পার্টি, বন্ধ ওয়েবসাইট

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১৮: ৩৯
এই আন্দোলনের মূল কারিগর অভিজিৎ দীপক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিকে ব্যঙ্গ করে গড়ে ওঠা অনলাইন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।

শনিবার (২৩ মে) বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে লেখেন, সরকার তাদের এই আন্দোলনকে ভয় পেয়ে ওয়েবসাইট ব্লক করেছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও সিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করিয়েছে।

সপ্তাহখানেক আগে গঠিত এই ব্যঙ্গাত্মক দলের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত নরেন্দ্র মোদির বিজেপির অফিশিয়াল ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র ৯০ লাখ।

শনিবার (২৩ মে) সিজেপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ‘cockroachjantaparty.org’ এবং বেশ কয়েকটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিজিৎ দীপক এই ঘটনার জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করে একে ‘স্বৈরাচারী’ আচরণ অভিহিত করেছেন।

অভিজিৎ দীপক জানান, সিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ এবং তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। মেটা কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস হারিয়েছি। উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছি।’ সিজেপির ব্যাক-আপ পেজও মেটা সরিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দীপক।

এছাড়া গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরকারি আইনি নোটিশের কারণে সিজেপির অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টও ভারতে ব্লক করা হয়।

সম্প্রতি ভারতের সরকারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির জেরে দেশের ছাত্রসমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। সিজেপির পক্ষ থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনলাইন পিটিশন চালু করা হয়েছিল, যেখানে ইতোমধ্যে ৬ লাখের বেশি মানুষ সই করেছেন।

গত সপ্তাহে এক মামলার শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সাংবাদিকতা বা সমাজকর্মী হওয়ার চেষ্টা করছে এমন বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের জেরে ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আত্মপ্রকাশ ঘটে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দীপক বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা সাধারণ নাগরিকদের তেলাপোকা এবং পরজীবী মনে করে। তবে তাদের জানা উচিত, তেলাপোকা পচা ও নোংরা জায়গায় বংশবৃদ্ধি করে; আর আজকের ভারতের অবস্থাও ঠিক তাই।’

দীপক আরও বলেন, অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিলেও তরুণদের এই জাগরণকে দমানো যাবে না এবং তাঁরা নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবেন।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

সম্পর্কিত