স্ট্রিম সম্পাদকীয়

প্রতিবছর বন্যা আসে, পাহাড়ধস হয়, মানুষ মারা যায়। এসব বাংলাদেশের পরিচিত দুর্ভাগ্য। কিন্তু এবার দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা ও পাহাড়ধস আমাদের সামনে আরেকটি বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। দুর্যোগের বড় ক্ষতি শুধু প্রাণহানি বা ঘরবাড়ি ধ্বংস নয়। বড় ক্ষতি হলো মানুষের বাস্তুচ্যুতি। কয়েক দিনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া মানুষদের অনেকেই আর কখনো নিজের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেন না। তাঁরা হয়ে পড়েন স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হওয়া নাগরিক।
আইডিএমসি ও রামরুর সাম্প্রতিক গবেষণা এই সংকটকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই বাস্ত্যুচ্যুতির ৯৯ শতাংশই ঘটেছে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত কারণে। জলবায়ু ভেঙে দিচ্ছে মানুষের জীবন, জীবিকা ও সামাজিক ভিত্তিকেও। এই বাস্তুচ্যুতির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সেই ক্ষত আরও গভীর।
চলতি বন্যায় হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। এসব মানুষের একটি অংশ আর আগের জীবনে ফিরতে পারবেন না। সহায়-সম্বল হারিয়ে তাঁরা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবেন। ঋণ, অনিশ্চিত কাজ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার এক দুষ্টচক্রে আটকে পড়বেন তাঁরা। এভাবে দুর্যোগ সাময়িক ঘটনা থেকে পরিণত হয় প্রজন্মান্তরে চলমান দারিদ্র্যের কারখানায় ।
এই বাস্তুচ্যুতির বড় অংশ মানুষের তৈরি। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বন উজাড়, নদী-খাল ভরাট, পরিবেশবিধ্বংসী অবকাঠামো নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যে উন্নয়ন মানুষকে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে তা নিয়ে পূনর্বিবেচনা করা দরকার।
বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং জনজবাবদিহি নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। পাহাড় কাটা হবে কি না, নদীর গতিপথ বদলানো হবে কি না, বন উজাড় হবে কি না—এসব সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয় হতে পারে না। যাঁদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে তাঁদের কণ্ঠই এখানে হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে বহু জীবন রক্ষা পাচ্ছে। এখন সময় এসেছে নীতির কেন্দ্রবিন্দু বদলানোর। এমন দুর্যোগসহনশীল বসতি, টেকসই অবকাঠামো এবং জীবিকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ নিজের ভিটেমাটিতেই নিরাপদে থাকতে পারে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সমন্বিত নীতিও জরুরি।
বর্তমান বন্যা ও পাহাড়ধস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে এগুলো আরও ঘন ঘন ও আরও ভয়াবহ হবে। তাই প্রতি বছর ত্রাণ বিতরণ আর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করে দায়িত্ব শেষ করার সময় পেরিয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন এমন রাষ্ট্রনীতি যা বাস্তুচ্যুতি কমাবে, পরিবেশ রক্ষা করবে, উন্নয়নকে করবে জবাবদিহিমূলক এবং মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক।

প্রতিবছর বন্যা আসে, পাহাড়ধস হয়, মানুষ মারা যায়। এসব বাংলাদেশের পরিচিত দুর্ভাগ্য। কিন্তু এবার দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা ও পাহাড়ধস আমাদের সামনে আরেকটি বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। দুর্যোগের বড় ক্ষতি শুধু প্রাণহানি বা ঘরবাড়ি ধ্বংস নয়। বড় ক্ষতি হলো মানুষের বাস্তুচ্যুতি। কয়েক দিনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া মানুষদের অনেকেই আর কখনো নিজের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেন না। তাঁরা হয়ে পড়েন স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হওয়া নাগরিক।
আইডিএমসি ও রামরুর সাম্প্রতিক গবেষণা এই সংকটকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই বাস্ত্যুচ্যুতির ৯৯ শতাংশই ঘটেছে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত কারণে। জলবায়ু ভেঙে দিচ্ছে মানুষের জীবন, জীবিকা ও সামাজিক ভিত্তিকেও। এই বাস্তুচ্যুতির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে সেই ক্ষত আরও গভীর।
চলতি বন্যায় হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। এসব মানুষের একটি অংশ আর আগের জীবনে ফিরতে পারবেন না। সহায়-সম্বল হারিয়ে তাঁরা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবেন। ঋণ, অনিশ্চিত কাজ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার এক দুষ্টচক্রে আটকে পড়বেন তাঁরা। এভাবে দুর্যোগ সাময়িক ঘটনা থেকে পরিণত হয় প্রজন্মান্তরে চলমান দারিদ্র্যের কারখানায় ।
এই বাস্তুচ্যুতির বড় অংশ মানুষের তৈরি। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বন উজাড়, নদী-খাল ভরাট, পরিবেশবিধ্বংসী অবকাঠামো নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যে উন্নয়ন মানুষকে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে তা নিয়ে পূনর্বিবেচনা করা দরকার।
বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং জনজবাবদিহি নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। পাহাড় কাটা হবে কি না, নদীর গতিপথ বদলানো হবে কি না, বন উজাড় হবে কি না—এসব সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয় হতে পারে না। যাঁদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে তাঁদের কণ্ঠই এখানে হওয়া উচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে বহু জীবন রক্ষা পাচ্ছে। এখন সময় এসেছে নীতির কেন্দ্রবিন্দু বদলানোর। এমন দুর্যোগসহনশীল বসতি, টেকসই অবকাঠামো এবং জীবিকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ নিজের ভিটেমাটিতেই নিরাপদে থাকতে পারে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সমন্বিত নীতিও জরুরি।
বর্তমান বন্যা ও পাহাড়ধস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে এগুলো আরও ঘন ঘন ও আরও ভয়াবহ হবে। তাই প্রতি বছর ত্রাণ বিতরণ আর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করে দায়িত্ব শেষ করার সময় পেরিয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন এমন রাষ্ট্রনীতি যা বাস্তুচ্যুতি কমাবে, পরিবেশ রক্ষা করবে, উন্নয়নকে করবে জবাবদিহিমূলক এবং মানুষের অংশগ্রহণভিত্তিক।
.png)

দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ-অভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সামনে জনগণের প্রত্যাশা সীমাহীন।
৩৫ মিনিট আগে
বিশ্ববিদ্যালয় যদি নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে গবেষণার রূপরেখা তৈরি করতে না পারে, তবে তা স্রেফ ডিগ্রি দেওয়ার কারখানায় পরিণত হবে। শিক্ষকেরা তখন নতুন জ্ঞান সৃষ্টির চেয়ে আমলাতান্ত্রিক ফাইলের পেছনে দৌড়াতে বেশি বাধ্য হবেন, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি ক্লাসরুমের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পড়বে।
২ ঘণ্টা আগে
১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই। দমবন্ধ করা মধ্যগ্রীষ্মের দাবদাহে প্যারিস তখন স্থবির। চরম হতাশা, পদ্ধতিগত অনাহার আর পুঞ্জীভূত অপমানের তীব্র ক্ষোভে সাধারণ নাগরিকের এক বিশাল জনস্রোত ধেয়ে চলল বাস্তিল দুর্গের পানে।
৭ ঘণ্টা আগে
মিনিট দশেক স্ক্রল করতেই বেশ কয়েকটি ভিডিও আর ছবি দেখা হলো। একটি ছেলে হাঁটুসমান পানি ভেঙে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছে। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেল। ছিটকে উঠল নোংরা পানি। পুরো শরীর ডুবে গেলেও হাতে ধরা অ্যাডমিট কার্ডের ফাইলটা কোনোমতে হাত উঁচিয়ে রক্ষা করল ছেলেটা।
৭ ঘণ্টা আগে