কুমিল্লায় সালিসে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান বলছেন ‘রায় কার্যকর করেছি’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুমিল্লা

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৫৫
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সালিস বৈঠকে এক গৃহবধূকে জুতাপেটা। স্ট্রিম গ্রাফিকস
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সালিস বৈঠকে এক গৃহবধূকে জুতাপেটা। স্ট্রিম গ্রাফিকস

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সালিস বৈঠকে এক গৃহবধূকে জুতাপেটা করা হয়েছে। পরকীয়ার অভিযোগে ওই নারীকে জুতাপেটা করেন মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে সালিস বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ওই ঘটনার একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সালিসে গ্রামের মানুষের উপস্থিতিতে একজন নারীকে ডাকা হয়। তাঁর মাথা নিচু করে চেপে ধরে জুতা দিয়ে পিঠে ছয়টি আঘাতে করেন ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন। এ সময় বৃত্তের মতো করে বেশ কিছু নারী-পুরুষ ও শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই গৃহবধূর পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গ্রামীণ সালিস বৈঠকে তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সালিশে যুবককে শাস্তি দেওয়া হলেও তার কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়নি।

সালিসে উপস্থিত থাকা একজন নাম না প্রকাশের শর্তে স্ট্রিমকে বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী ও ওই যুবকের মধ্যে দুই বছর ধরে সম্পর্ক চলছি। গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে তাদের একসঙ্গে আটক করে স্থানীয় লোকজন। তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে তারা। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজিত পরিস্থিতি তৈরি হলে চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন হস্তক্ষেপ করেন। চেয়ারম্যান গৃহবধূর প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি সন্তানের কথা বলে বিয়ে ব্যতিত অন্যভাবে মীমাংসার দাবি জানান।

ওই ব্যক্তি বলেন, সালিসে গৃহবধূর আপন ভাইও উপস্থিত ছিলেন। শাস্তির পর গৃহবধূকে বাবার বাড়ির নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে একটি গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ওই নারী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। সামাজিক বিচারের রায় আমি কার্যকর করেছি মাত্র।’ তবে সালিসে শাস্তি দেওয়ার আইনগত বৈধতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেননি।

এদিকে গ্রাম্য সালিশের রায়ের আইনগত ভিত্তি নেই জানিয়ে জেলার আইনজীবী খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, কেউ অপরাধী হলে তাকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করা যেত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে সালিসে কোনো নারীকে জুতাপেটা গুরুতর অপরাধ।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদেরও নজরে এসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

কুমিল্লায় সালিসে নারীকে জুতাপেটা, চেয়ারম্যান বলছেন ‘রায় কার্যকর করেছি’