‘বেঙ্গালুরু বাই বাই’, ফেরার আগেই কলকাতার আগুনে শেষ দেবাশিসের পরিবার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ১৯
বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরার ছবি শেয়ার করেন দেবাশিস দত্ত। ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরার ছবি শেয়ার করেন দেবাশিস দত্ত। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে আর দেশে ফেরা হলো না কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশিস দত্তের। কলকাতার একটি হোটেলে আগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর স্ত্রী, তিন বছর বয়সী শিশু ও শ্বশুর।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে কলকাতা শহরের ঘিঞ্জি নিউমার্কেট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ ও আগুনে পুড়ে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চার সদস্যসহ ৯ জন মারা যান।

কুষ্টিয়ার নিহতরা হলেন- স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেবাশিস দত্ত (৩৭), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), ছেলে শর্ণশিষ দত্ত (৩) ও দেবাশিসের শ্বশুর শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

স্বজনেরা জানান, চিকিৎসার জন্য ৩ আগস্ট ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান চারজন। মঙ্গলবার রাতে বেঙ্গালুরু থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরেন। বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু এর আগেই তাদের অবস্থান করা হোটেলে আগুন লাগে।

সামাজিক মাধ্যমে দেবাশিস ভারতে অবস্থানের ছবি ও পোস্ট নিয়মিত শেয়ার করেছেন। মৃত্যুর কিছু সময় আগে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘টানা ১৩ দিন পর বেঙ্গালুরু বাই বাই...’। এটিই যে জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি সহকর্মী কিংবা স্বজনেরা।

দেবাশিসের বড় মেয়ে পাখি দেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও, বাকরুদ্ধ। পরিবারের কারও সান্ত্বনা কাজে আসছে না।

ছেলের মৃত্যুর খবরে মা স্বপ্না দত্ত ও বাবা দিলীপ দত্ত মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বপ্না দত্তের আর্তনাদ, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। কালকেও (মঙ্গলবার) তো ভালো মানুষটা আমার সঙ্গে কথা বলল! এখন আমার কী হবে?

বাবা দিলীপ দত্তের আহাজারি, একজন বাবা হয়ে কীভাবে সন্তানের লাশ তিনি মেনে নেবেন।

দেবাশিসের মৃত্যুর খবরে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মীরা বলছেন, পেশাদার সাংবাদিকের পাশাপাশি তাঁরা সাদা মনের, সহজ-সরল ও আন্তরিক মানুষ হারিয়েছেন।

কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেবাশিস অত্যন্ত মেধাবী, পেশাদার ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।

প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের রিপন জানান, দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে এভাবে হারানো হৃদয়বিদারক। তাঁর এই নির্মম প্রস্থান কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

‘বেঙ্গালুরু বাই বাই’, ফেরার আগেই কলকাতার আগুনে শেষ দেবাশিসের পরিবার