লোহিত সাগরে আরও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ হুতিদের কব্জায়
স্ট্রিম ডেস্ক

দক্ষিণ লোহিত সাগরে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখল করে বাব এল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সংঘাতের মুখে সেখান থেকে পিছু হটেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তা ও হুতি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এসব তথ্য জানিয়েছে।
বাব এল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরের হানিশ দ্বীপপুঞ্জ এখন হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। শত শত সৌদি-সমর্থিত সরকারি সৈন্য সেখান থেকে পিছু হটার পর হুতি যোদ্ধারা ওই দ্বীপপুঞ্জে সরাসরি অবস্থান নেয়।
এদিকে সৌদি আরবের ওপর সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে হুতিরা। হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বিবৃতিতে জানান, খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই হামলায় বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও গোলাবারুদের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, গত পাঁচ দিনে খামিস মুশাইত ও তায়েফ ঘাঁটি থেকে সৌদি আরবের এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে তিন শতাধিক বিমান হামলা চালায়, যার জবাবে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন পর্যন্ত ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন বন্ধ না হবে এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা না হবে, ততদিন সৌদি আরবের সামরিক সমাবেশ ও ভূখণ্ড লক্ষ্য করে তাদের আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।
৫০০ সরকারি সেনা নিহত
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫০০ জনেরও বেশি সৈন্য নিহত এবং প্রায় ১,৫০০ জন আহত হয়েছেন। ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সরকারি বাহিনী দাবি করেছে যে এই সময়ে এক হাজারের বেশি হুতি সদস্য নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছে, যদিও এসব তথ্যের নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে হুতিদের অভিযানের মুখে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের সম্মুখ যুদ্ধরেখা দ্রুত বদলে যায়। হুতিরা কৌশলগত বন্দর শহর মোখা দখল করার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালির কেন্দ্রে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপ কবজায় নেয়। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথের ওপর হুতিদের অবস্থান আরও শক্ত হয়।
সেখান থেকে তারা আরও দক্ষিণে লাহিজ প্রদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ায় লড়াই এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কেন্দ্র এডেনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
সৌদি তেলের রপ্তানি মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে
গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইরাক থেকে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় পাইপলাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন। স্যাটেলাইট চিত্রে মদিনার দক্ষিণ-পূর্বে পাইপলাইন অবকাঠামোতে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়।
সৌদি আরবে হুতি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল সরবরাহ লাইন দ্রুত চালু করা সম্ভব না হলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত ৫-৭ দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ৪ শতাংশ ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সৌদি তেলের আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ার পর, সৌদি আরবের অবকাঠামোতে নতুন হামলা এবং পারস্য উপসাগরে জাহাজে ইরানি হামলার কারণে সরবরাহ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে সোমবার জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
.png)

-7c29dd-256x144.webp)






