মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলায় তেল ১০৮ ডলারে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৪৭
জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ দশমিক ৫৪ ডলারে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৯৩ ডলারে পৌঁছেছে।

সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করত। পাইপলাইন বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইপলাইন বন্ধ থাকায় লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে যে পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানি চাহিদা মেটানো সম্ভব।

আইএনজি-র পণ্য কৌশলবিদরা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বৃদ্ধির কারণে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশসহ আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় রেকর্ড ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকায় ঠেকেছে। ঢাকা চেম্বারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার এবং বছরে প্রায় ৯৬ কোটি ডলার বেড়ে যায়।

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন চালান আনা শুরু হয়েছে এবং ২০ সেপ্টেম্বরের পর সরবরাহ আরও বৃদ্ধির কথা রয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, পরিবহন ও কৃষিতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত