ইরানের ‘পবিত্র শহর’ কোমে খামেনির মরদেহ, হবে জানাজা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৩৫
ধারণা করা হচ্ছে, আলী খামেনির জানাজা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা। ছবি: আল জাজিরা থেকে নেওয়া
ধারণা করা হচ্ছে, আলী খামেনির জানাজা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা। ছবি: আল জাজিরা থেকে নেওয়া

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী দাফন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এখানে জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে খামেনির মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন খামেনি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, প্রথম দিনের জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের প্রধান প্রধান সড়কে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। ১৯৮৯ সালে খামেনির পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। এবারের জানাজাকে সেটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

খামেনির কফিনের সঙ্গে তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট একটি কফিনও। শ্রদ্ধা জানাতে আসা কালো পোশাক পরা শোকাহত মানুষদের কফিনগুলোর ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিতে দেখা গেছে।

হামিদ নামে একজন আলজাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভাজন ঠেকিয়েছেন। ইরানের জন্য তিনি যা করেছেন, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মানুষ এখানে এসেছে।

আরেক শোকাহত মারজিয়েহ বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের শহীদ নেতাকে জানাতে যে, তাঁর রক্ত বৃথা যায়নি। আমরা তাঁর প্রতি আমাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করতে এসেছি।

জনসমক্ষে নেই মোজতবা

খামেনির উত্তরসূরি ও ছেলে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে আসেননি তিনি।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামি বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি বলেই তিনি বাবার শেষকৃত্যের শোকযাত্রায় অংশ নেননি।

তিনি আরও বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এখন অত্যন্ত নাজুক একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। একই সঙ্গে কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে তাঁর জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিজ শহর মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হবে।

‘শত্রুদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা’

খামিনির জানাজায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, আজ আমরা ইরানের সম্মান, অগ্রগতি ও গৌরবের পথ ধরে এগিয়ে যাব।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এবং কুদস ফোর্সের প্রধান এসমাইল কানি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে দেখা যায়, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদরও জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছেন। মার্চে বিমান হামলায় তাঁর পূর্বসূরি আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।

ইরানের গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জোলঘাদর বলেন, লাল পতাকা হাতে এবং প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকা লাখো মানুষের উপস্থিতি শত্রুদের প্রতি ইরানি জাতির একটি স্পষ্ট বার্তা।

জানাজায় ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদও অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিকে তাঁর সঙ্গে খামেনির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত