পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনা চলছে, বিজেপি-তৃণমূল ‘হাড্ডাহাড্ডি’

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলছে। সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিধানসভার মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে রয়েছে ১০৬ আসনে। অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯৮ আসনে। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

এর আগে স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) ভোট গণনা শুরু হয়। দুপুর ১২টার মধ্যেই ভোটের জয়-পরাজয়ের গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু কেন্দ্রে গণনা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, যার ফলে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

কয়েক মাসের উত্তপ্ত প্রচার এবং ৯২ দশমিক ৫ শতাংশের রেকর্ড ভোটগ্রহণের পর আজ নির্ধারিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় লড়াই মূলত বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে বিজেপির ‘অসৎ ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন এবং রেকর্ড ভোটদানকে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার বিরুদ্ধে ‘গণপ্রতিরোধ’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, বিজেপি মনে করছে এত ভোটারের উপস্থিতি মূলত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তৃণমূলের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো দক্ষিণবঙ্গের প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের ১১১ আসন। এছাড়া রাজ্যজুড়ে থাকা মুসলিম ভোটব্যাংক যদি তৃণমূলের পক্ষে অটুট থাকে, তবে মমতার জয় সহজ হবে। তৃণমূলের লক্ষ্য অন্তত ২০০ আসন পাওয়া, যাতে নির্বাচনের পর দল ভাঙানোর কোনো সুযোগ না থাকে। গত নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫ আসন পেলেও এবার বিজেপির থাবা কতটা গভীর হয়, সেটাই দেখার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই বলা হচ্ছে এই নির্বাচনকে। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী ও বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

গত ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল সামনে আসতে শুরু করে। অধিকাংশ সমীক্ষাই বিজেপির জয়ের সম্ভাবনার কথা বলছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৫০ থেকে ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে বিভিন্ন সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসকেও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

সম্পর্কিত