রাত পোহালেই ভোটের ফল, পশ্চিমবঙ্গের মসনদে মমতা নাকি শুভেন্দু

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০১: ১৫
স্ট্রিম গ্রাফিক

রাত পোহালেই ঘোষণা হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি চতুর্থবারের মতো ক্ষমতা আসবেন নাকি প্রথমবারের শুভেন্দু অধিকারী ইতিহাস গড়বেন? সবার নজর এখন সেদিকেই।

কয়েক মাসের উত্তপ্ত প্রচার এবং ৯২ দশমিক ৫ শতাংশের রেকর্ড ভোটগ্রহণের পর আগামীকালই নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় লড়াই মূলত বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে বিজেপির ‘অসৎ ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন এবং রেকর্ড ভোটদানকে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার বিরুদ্ধে ‘গণপ্রতিরোধ’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, বিজেপি মনে করছে এত ভোটারের উপস্থিতি মূলত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তৃণমূলের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো দক্ষিণবঙ্গের প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের ১১১ আসন। এছাড়া রাজ্যজুড়ে থাকা মুসলিম ভোটব্যাংক যদি তৃণমূলের পক্ষে অটুট থাকে, তবে মমতার জয় সহজ হবে। তৃণমূলের লক্ষ্য অন্তত ২০০ আসন পাওয়া, যাতে নির্বাচনের পর দল ভাঙানোর কোনো সুযোগ না থাকে। গত নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫ আসন পেলেও এবার বিজেপির থাবা কতটা গভীর হয়, সেটাই দেখার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই বলা হচ্ছে এই নির্বাচনকে। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী ও বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

২০২১ সালে ৭৭ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসা বিজেপি এবার ১৫০-এর ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার টার্গেট নিয়েছে। উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে, তবে দক্ষিণবঙ্গে তারা কতটা জমি দখল করতে পারে, তা দলটির বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহের ঝোড়ো প্রচার ভোটারদের মনে কতটা দাগ কেটেছে, তা ভোট গণনার পরই পরিষ্কার হবে।

কংগ্রেস এবার এককভাবে লড়ছে। অন্যদিকে বামেরা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দীপ্সিতা ধরের মতো একঝাঁক তরুণ মুখকে সামনে এনেছে। এছাড়া আইএসএফ বা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মিমের মতো ছোট দলগুলো যদি মুসলিম ভোটে ভাগ বসায়, তবে তার সরাসরি ক্ষতি হতে পারে তৃণমূলের। মুর্শিদাবাদ বা মালদার মতো জেলাগুলোতে ছোট দলগুলোর ভোট কাটাকাটি আসনের ফলাফল উল্টে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সম্পর্কিত