লেখা:

সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট ঘিরে আবারও ভারতজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘এপস্টিন সংযোগ’ থেকে শুরু করে সরকারি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয়। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।
এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর একটি পোস্টকে ঘিরে নতুন অভিযোগ সামনে আসে। মোদির জীবনীকার মধু পূর্ণিমা কিশোর নিজেও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখ, সেই পোস্টকে রিটুইট করে দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ওই পোস্টে মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কুরুচিকর দাবি পর্যন্ত রয়েছে। মধু কিশোর তাঁর লেখা বইয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক উত্থানকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক মহলে এই ধরনের দাবি যে প্রবল আলোড়ন তুলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রশ্ন হলো, এখনও কেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং মধু কিশোরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হলো না? কেন পোস্ট তুলে নিতে বাধ্য করা হলো না? সেই প্রশ্নও উঠছে।
এই অভিযোগগুলোর সত্যতা ইনস্ক্রিপ্ট যাচাই করতে পারেনি এবং সেগুলোর কোনো প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। তবুও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, আরএসএসের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ তুললে, সেই ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কারণ অতীত বলছে, আরএসএসের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুললে, তার ফল অনেক সময় সহজ বা স্বাভাবিক হয়নি। বরং নানা বিতর্ক, চাপ, এমনকি রহস্যজনক ঘটনাও জড়িয়ে থেকেছে সেইসব ঘটনার সঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা জরুরি কিছু পুরনো কেস স্টাডি, যা আজকের পরিস্থিতিকে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে প্রথমেই মনে পড়ে বলরাজ মাধবের কথা। তিনি ছিলেন ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের মধ্যে অন্যতম এবং একসময় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। ১৯৬০-এর দশকে তিনি সংগঠনের ভিত মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদভানীর মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। মাধবের অভিযোগ ছিল, জনসংঘ তার মূল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে আপসের রাজনীতি করছে এবং কিছু নেতা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যে এই সমালোচনা করতে শুরু করেন এবং দলীয় নীতির বিরোধিতা করেন। এর জেরে দলের ভিতরে তাঁর প্রভাব দ্রুত কমতে থাকে।
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, তাঁকে কার্যত দল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। জনসংঘের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন মাধব। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলেও আগের মতো প্রভাব আর ফিরে পাননি। এই ঘটনাটি দেখায়, সংগঠনের ভিতর থেকেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলে রাজনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকি কতটা প্রবল হতে পারে।
আরও এক আলোচিত নাম হরেন পান্ডিয়া। তিনি ছিলেন গুজরাটের এক গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৯০-এর দশকে তিনি খুব দ্রুত দলের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে তাঁর নাম উঠে আসতে শুরু করে। সেই সময়ে তিনি নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন, ফলে দলের ভেতরে তাঁর প্রভাবও বাড়তে থাকে। কিন্তু ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, দাঙ্গা-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এমন কথাও শোনা যায়, তিনি এক অনানুষ্ঠানিক সাক্ষ্যে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও এই অভিযোগের কোনো সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে তখন রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা হয়। সংগঠনে তাঁর অবস্থানও যে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তাও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যায়।
২০০৩ সালের মার্চ মাসে আহমেদাবাদে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। তদন্তের দায়িত্ব পায় সিবিআই। বিভিন্ন আদালতে মামলা ঘোরে। সিবিআই তদন্তের পর ট্রায়াল কোর্টে ১২ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে পরে গুজরাট হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে ৮ জন অভিযুক্তকে খালাস দেয়। এরপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত ৪ অভিযুক্তের দোষী সাব্যস্তকরণ বহাল রাখে এবং ৮ জনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের খালাসের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে। ফলে মামলায় ৪ অভিযুক্ত শাস্তি পেলেও, পুরো মামলাকে ঘিরে সব প্রশ্ন ও সন্দেহ সম্পূর্ণভাবে মেটেনি। আজও অনেকেই মনে করেন, এই হত্যার নেপথ্যে কী ছিল, তার পূর্ণ সত্য সামনে আসেনি। ফলে এই ঘটনা এক ধরনের অমীমাংসিত অধ্যায় হিসেবেই থেকে গিয়েছে। এই ঘটনাগুলিকে প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা হয়। কারণ এগুলি একটি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত দেয় যে ক্ষমতার শীর্ষস্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা মানেই ঝুঁকি নেওয়া। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান বিতর্ককে দেখলে বোঝা যায় কেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ উদ্বিগ্ন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ঝুঁকির কথাই আবার সামনে আসছে। সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, তিনি শুধু সমালোচনা করেননি, এমন কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন যা ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এই প্রসঙ্গে সুব্রহ্মণ্যন স্বামীর রাজনৈতিক অতীতও প্রাসঙ্গিক। তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আবার বহুবার সেই শিবিরের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব এখানেই তিনি আউটসাইডার নন, বরং দীর্ঘদিনের ইনসাইডার। ফলে তাঁর অভিযোগকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, আবার অনেকেই তা সরাসরি খারিজও করছেন। তাছাড়া তিনি বরাবরই বিতর্কিত মন্তব্য এবং অভিযোগের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে তিনি বড় বড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এবং আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের সত্য-মিথ্যা বিচার সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, অভিযোগ তোলার অধিকার এবং তার নিরাপত্তা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে? গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই, যে প্রশ্ন উঠবে, বিতর্ক হবে, এবং শেষ পর্যন্ত সত্যের অনুসন্ধান চলবে। কিন্তু সেই পথ যেন নিরাপদ হয়, এই দাবি আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক।

সাম্প্রতিক এক পডকাস্ট ঘিরে আবারও ভারতজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘এপস্টিন সংযোগ’ থেকে শুরু করে সরকারি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয়। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।
এই বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর একটি পোস্টকে ঘিরে নতুন অভিযোগ সামনে আসে। মোদির জীবনীকার মধু পূর্ণিমা কিশোর নিজেও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখ, সেই পোস্টকে রিটুইট করে দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ওই পোস্টে মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কুরুচিকর দাবি পর্যন্ত রয়েছে। মধু কিশোর তাঁর লেখা বইয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক উত্থানকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক মহলে এই ধরনের দাবি যে প্রবল আলোড়ন তুলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রশ্ন হলো, এখনও কেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং মধু কিশোরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হলো না? কেন পোস্ট তুলে নিতে বাধ্য করা হলো না? সেই প্রশ্নও উঠছে।
এই অভিযোগগুলোর সত্যতা ইনস্ক্রিপ্ট যাচাই করতে পারেনি এবং সেগুলোর কোনো প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। তবুও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, আরএসএসের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ তুললে, সেই ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কারণ অতীত বলছে, আরএসএসের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুললে, তার ফল অনেক সময় সহজ বা স্বাভাবিক হয়নি। বরং নানা বিতর্ক, চাপ, এমনকি রহস্যজনক ঘটনাও জড়িয়ে থেকেছে সেইসব ঘটনার সঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা জরুরি কিছু পুরনো কেস স্টাডি, যা আজকের পরিস্থিতিকে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
এই প্রসঙ্গে প্রথমেই মনে পড়ে বলরাজ মাধবের কথা। তিনি ছিলেন ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের মধ্যে অন্যতম এবং একসময় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। ১৯৬০-এর দশকে তিনি সংগঠনের ভিত মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদভানীর মতবিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। মাধবের অভিযোগ ছিল, জনসংঘ তার মূল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে আপসের রাজনীতি করছে এবং কিছু নেতা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যে এই সমালোচনা করতে শুরু করেন এবং দলীয় নীতির বিরোধিতা করেন। এর জেরে দলের ভিতরে তাঁর প্রভাব দ্রুত কমতে থাকে।
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, তাঁকে কার্যত দল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। জনসংঘের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন মাধব। পরবর্তী সময়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করলেও আগের মতো প্রভাব আর ফিরে পাননি। এই ঘটনাটি দেখায়, সংগঠনের ভিতর থেকেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলে রাজনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকি কতটা প্রবল হতে পারে।
আরও এক আলোচিত নাম হরেন পান্ডিয়া। তিনি ছিলেন গুজরাটের এক গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৯৯০-এর দশকে তিনি খুব দ্রুত দলের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে তাঁর নাম উঠে আসতে শুরু করে। সেই সময়ে তিনি নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন, ফলে দলের ভেতরে তাঁর প্রভাবও বাড়তে থাকে। কিন্তু ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, দাঙ্গা-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এমন কথাও শোনা যায়, তিনি এক অনানুষ্ঠানিক সাক্ষ্যে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও এই অভিযোগের কোনো সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে তখন রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা হয়। সংগঠনে তাঁর অবস্থানও যে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তাও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যায়।
২০০৩ সালের মার্চ মাসে আহমেদাবাদে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। তদন্তের দায়িত্ব পায় সিবিআই। বিভিন্ন আদালতে মামলা ঘোরে। সিবিআই তদন্তের পর ট্রায়াল কোর্টে ১২ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে পরে গুজরাট হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে ৮ জন অভিযুক্তকে খালাস দেয়। এরপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত ৪ অভিযুক্তের দোষী সাব্যস্তকরণ বহাল রাখে এবং ৮ জনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের খালাসের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে। ফলে মামলায় ৪ অভিযুক্ত শাস্তি পেলেও, পুরো মামলাকে ঘিরে সব প্রশ্ন ও সন্দেহ সম্পূর্ণভাবে মেটেনি। আজও অনেকেই মনে করেন, এই হত্যার নেপথ্যে কী ছিল, তার পূর্ণ সত্য সামনে আসেনি। ফলে এই ঘটনা এক ধরনের অমীমাংসিত অধ্যায় হিসেবেই থেকে গিয়েছে। এই ঘটনাগুলিকে প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে সামনে আনা হয়। কারণ এগুলি একটি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত দেয় যে ক্ষমতার শীর্ষস্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা মানেই ঝুঁকি নেওয়া। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান বিতর্ককে দেখলে বোঝা যায় কেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ উদ্বিগ্ন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ঝুঁকির কথাই আবার সামনে আসছে। সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, তিনি শুধু সমালোচনা করেননি, এমন কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন যা ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এই প্রসঙ্গে সুব্রহ্মণ্যন স্বামীর রাজনৈতিক অতীতও প্রাসঙ্গিক। তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আবার বহুবার সেই শিবিরের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব এখানেই তিনি আউটসাইডার নন, বরং দীর্ঘদিনের ইনসাইডার। ফলে তাঁর অভিযোগকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, আবার অনেকেই তা সরাসরি খারিজও করছেন। তাছাড়া তিনি বরাবরই বিতর্কিত মন্তব্য এবং অভিযোগের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে তিনি বড় বড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এবং আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের সত্য-মিথ্যা বিচার সময়ের হাতে ছেড়ে দিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, অভিযোগ তোলার অধিকার এবং তার নিরাপত্তা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে? গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই, যে প্রশ্ন উঠবে, বিতর্ক হবে, এবং শেষ পর্যন্ত সত্যের অনুসন্ধান চলবে। কিন্তু সেই পথ যেন নিরাপদ হয়, এই দাবি আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রাসঙ্গিক।

ইরান যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটির তেলের খনি, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি সরবরাহ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
১৪ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধ শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার পরপরই কিউবাতে একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ পৌঁছেছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স সোমবার (৩০ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫-দফার শান্তি প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব ও অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের বাড়তি ব্যয় সামলাতে প্রতিরক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ দিয়ে ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। বাড়তি ঋণ গ্রহণ ও বেসামরিক খাতে ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।
৬ ঘণ্টা আগে