দুই বিভাগে রয়টার্স পেল পুলিৎজার পুরস্কার, আরও পেল যারা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ১৬: ০০
পুলিৎজার পুরস্কার। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

সাংবাদিকতার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পুলিৎজার পুরস্কারের ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে সোমবার (৪ মে)। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই পুরস্কার প্রতি বছর জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ, গভীর ও অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। এবারের তালিকায় উঠে এসেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেকনোলজি কোম্পানির দায়বদ্ধতা এবং মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান।

এবার দুটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে রয়টার্স। একটি ন্যাশনাল রিপোর্টিংয়ের জন্য, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পলিটিক্যাল রিট্রিবিউশন বা রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। অন্যটি বিট রিপোর্টিংয়ের জন্য—যেখানে দেখানো হয়, কীভাবে টেকনোলজি জায়ান্ট মেটা জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট এবং ফ্রডুলেন্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্টের মাধ্যমে ইউজারদের, এমনকি শিশুদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

পাবলিক সার্ভিস রিপোর্টিংয়ের জন্য পুরস্কার পেয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের রিপোর্টিংয়ে ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের ফেডারেল এজেন্সিগুলোতে ব্যাপক কাটছাঁটের বিষয়টি উঠে আসে। অন্যদিকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জিতেছে তিনটি পুরস্কার, যার মধ্যে রয়েছে ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং—যেখানে দেখানো হয়, কীভাবে ট্রাম্প, তাঁর পরিবার এবং পরিচিতজনরা তাঁর মেয়াদে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে।

ন্যাশনাল রিপোর্টিংয়ের পুরস্কারটি ভাগ করে নিয়েছেন রয়টার্সের চার সাংবাদিক। তারা হলেন নেড পার্কার, লিন্ডা সো, পিটার আইসলার এবং মাইক স্পেক্টর। তাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন উঠে আসে, কীভাবে ট্রাম্প সরকারের মধ্যে তাঁর বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক শত্রুদের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে বিট রিপোর্টিংয়ে পুরস্কার পাওয়া রিপোর্টটি করেছেন টেকনোলজি ইনভেস্টিগেশনস রিপোর্টার জেফ হরউইৎজ এবং চায়না করেসপন্ডেন্ট এনজিন থাম। তারা অপ্রকাশিত কিছু ‘ইন্টারনাল ডকুমেন্ট’ এবং ‘ইনোভেটিভ টেকনিক’ ব্যবহার করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে মেটার বিজনেস মডেলের গোপন দিকগুলো উন্মোচন করেন।

হরউইৎজ দেখান, মেটার নিজস্ব গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে এআই চ্যাটবটকে শিশুদের সঙ্গে ‘সেনশুয়াল’ কথোপকথনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট আরেকটি স্টোরিতে দেখানো হয়, নিউ জার্সির এক ‘কগনিটিভলি ডিসেবল্ড’ ব্যক্তি—যিনি একটি মেটা চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের পর তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হন এবং আঘাত পেয়ে মারা যান।

অন্যান্য প্রতিবেদনেও আরও দেখানো হয়, ইলিসিট অ্যাডভার্টাইজিং থেকে মেটা কীভাবে প্রফিট করেছে। হরউইৎজ ও থাম পরবর্তীতে এই বিজনেসে চাইনিজ কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তাদের আরেকটি স্টোরিতে মেটার ‘গ্লোবাল প্লেবুক’ প্রকাশ পায়—যার মাধ্যমে মেটা বিশ্বজুড়ে ‘অ্যান্টি-স্ক্যাম’ নিয়ম এড়িয়ে যেতে পেরেছে।

একটি স্টোরির জন্য হরউইৎজ ১৪ বছর বয়সী ইউজারের নামে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন চ্যাটবটের আচরণ দেখাতে। আরেকটি স্টোরিতে তিনি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ভুয়া ‘গেট-রিচ-কুইক’ স্কিমের এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাড চালান।

এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত শুরু হয় ও আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়। এর ফলে মেটা তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম-কানুন বদলাতে বাধ্য হয়।

সম্পর্কিত