২০২৪ সালের আগস্টে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এর পর ন্যায়বিচারের দাবিতে ভারতজুড়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ডাক্তার-নার্সরা। বিচার নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সবাইকে অবাক করে নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হন ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ। প্রশ্ন উঠেছে, অভয়ার ভোটেই কি জিতেছে বিজেপি? পাঠকের জন্য রইল ইনস্ক্রিপ্ট-এর বিশ্লেষণ।
লেখা:

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আপাতত যে ফল সামনে আসছে, তাতে একটাই বড় প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে, মহিলারা কি এ বার আর একজোট হয়ে তৃণমূলকে ভোট দিলেন না? ভোটের অঙ্ক অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। পানিহাটিতে জয় পেলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। মেয়ের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বিজেপি প্রার্থী হন তিনি। আর তাঁর সিদ্ধান্তে পাশে দাঁড়াল পানিহাটি-সহ সারা বাংলার মা-বোনেরা। ২৮,৮৩৬ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে হারিয়ে জিতলেন রত্না দেবনাথ। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮৭,৯৭৭।
এবার রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে, আর সেই ভোটে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল স্পষ্টতই বেশি। কিন্তু বহু বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ঝুঁকে থাকা মহিলা ভোটব্যাঙ্ক, তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নির্বাচনে দুই দফা মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ। পিআইবি-র তথ্য বলছে, প্রথম দফায় মহিলা ভোটদানের হার ৯২.৬৯ শতাংশ, দ্বিতীয় দফায় ৯২.২৮ শতাংশ। গত কয়েক নির্বাচনের ট্রেন্ড বজায় রেখে এবারও মহিলাদের ভোটে অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। সাধারণত বলা হয়ে থাকে, বেশি ভোট পড়া মানে শাসকের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, এই ভোটেও সেই ব্যাখ্যাই মিলছে।
এই ফল আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। তার মধ্যে বড় অংশই মহিলা। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, বাদ পড়া ভোটারদের প্রায় ৬১ শতাংশের বেশি মহিলা। অর্থাৎ প্রশাসনিক জটিলতা, নাম বাদ পড়ার আতঙ্ক—সব কিছুর পরও যে বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোট দিতে পেরেছেন, তাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন স্পষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েই।
এক সময় মহিলা ভোটাররাই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শক্তি। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— এই সব প্রকল্প শুধু সরকারি অনুদান নয়, তৃণমূলের সঙ্গে একটা সম্পর্কও তৈরি করেছিল মহিলাদের সঙ্গে। বিশেষ করে ২০২১ সালে দুর্নীতি, কাটমানি, দলীয় সন্ত্রাস নিয়ে বিরোধীদের প্রবল আক্রমণের মাঝেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলকে বড় রক্ষাকবচ দিয়েছিল।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বছরে সেই সমীকরণেও ফাটল ধরেছে। প্রকল্পের টাকা মিললেও নিরাপত্তা, সম্মান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে অনেক বেশি। একের পর এক ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। বিরোধীরা সেই ক্ষোভকে লাগাতার রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চেয়েছে। ফলে আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নও মহিলা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই জায়গাতেই ‘অভয়া’ ইস্যু বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এক তরুণীর ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে নারীর নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকে পরিণত হয়। শহর থেকে জেলা, মহিলাদের মধ্যে এই ঘটনার অভিঘাত ছিল অনেকটাই। শাসক কি সত্যিই মহিলাদের পাশে রয়েছে? এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে এসেছে।
পানিহাটির মতো কেন্দ্রে এত ভোট পড়া সেই আবেগেরই ইঙ্গিত দেয়। রাতদখল, মিছিল, প্রতিবাদ— এসব শুধু একটি ঘটনার বিচার চাওয়া ছিল না; এর মধ্যে জমে ছিল দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস। অভয়ার মা (রত্না দেবনাথ)-কে ঘিরে জনসমর্থন, তাঁকে নিয়ে ব্যক্তিগত কদর্য আক্রমণের বিরুদ্ধে সহানুভূতি, এসবও নারী ভোটকে নীরবে প্রভাবিত করেছে। পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী রত্না দেবনাথেরই জয় হলো।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কি তবে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে সেই ‘অভয়া’ ক্ষোভই বড় চালিকাশক্তি হলো?

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আপাতত যে ফল সামনে আসছে, তাতে একটাই বড় প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে, মহিলারা কি এ বার আর একজোট হয়ে তৃণমূলকে ভোট দিলেন না? ভোটের অঙ্ক অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। পানিহাটিতে জয় পেলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। মেয়ের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বিজেপি প্রার্থী হন তিনি। আর তাঁর সিদ্ধান্তে পাশে দাঁড়াল পানিহাটি-সহ সারা বাংলার মা-বোনেরা। ২৮,৮৩৬ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে হারিয়ে জিতলেন রত্না দেবনাথ। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৮৭,৯৭৭।
এবার রেকর্ড হারে ভোট পড়েছে, আর সেই ভোটে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল স্পষ্টতই বেশি। কিন্তু বহু বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ঝুঁকে থাকা মহিলা ভোটব্যাঙ্ক, তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নির্বাচনে দুই দফা মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ। পিআইবি-র তথ্য বলছে, প্রথম দফায় মহিলা ভোটদানের হার ৯২.৬৯ শতাংশ, দ্বিতীয় দফায় ৯২.২৮ শতাংশ। গত কয়েক নির্বাচনের ট্রেন্ড বজায় রেখে এবারও মহিলাদের ভোটে অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। সাধারণত বলা হয়ে থাকে, বেশি ভোট পড়া মানে শাসকের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, এই ভোটেও সেই ব্যাখ্যাই মিলছে।
এই ফল আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এ বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। তার মধ্যে বড় অংশই মহিলা। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, বাদ পড়া ভোটারদের প্রায় ৬১ শতাংশের বেশি মহিলা। অর্থাৎ প্রশাসনিক জটিলতা, নাম বাদ পড়ার আতঙ্ক—সব কিছুর পরও যে বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোট দিতে পেরেছেন, তাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন স্পষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েই।
এক সময় মহিলা ভোটাররাই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শক্তি। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— এই সব প্রকল্প শুধু সরকারি অনুদান নয়, তৃণমূলের সঙ্গে একটা সম্পর্কও তৈরি করেছিল মহিলাদের সঙ্গে। বিশেষ করে ২০২১ সালে দুর্নীতি, কাটমানি, দলীয় সন্ত্রাস নিয়ে বিরোধীদের প্রবল আক্রমণের মাঝেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলকে বড় রক্ষাকবচ দিয়েছিল।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বছরে সেই সমীকরণেও ফাটল ধরেছে। প্রকল্পের টাকা মিললেও নিরাপত্তা, সম্মান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে অনেক বেশি। একের পর এক ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। বিরোধীরা সেই ক্ষোভকে লাগাতার রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চেয়েছে। ফলে আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নও মহিলা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই জায়গাতেই ‘অভয়া’ ইস্যু বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এক তরুণীর ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে নারীর নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকে পরিণত হয়। শহর থেকে জেলা, মহিলাদের মধ্যে এই ঘটনার অভিঘাত ছিল অনেকটাই। শাসক কি সত্যিই মহিলাদের পাশে রয়েছে? এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে এসেছে।
পানিহাটির মতো কেন্দ্রে এত ভোট পড়া সেই আবেগেরই ইঙ্গিত দেয়। রাতদখল, মিছিল, প্রতিবাদ— এসব শুধু একটি ঘটনার বিচার চাওয়া ছিল না; এর মধ্যে জমে ছিল দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস। অভয়ার মা (রত্না দেবনাথ)-কে ঘিরে জনসমর্থন, তাঁকে নিয়ে ব্যক্তিগত কদর্য আক্রমণের বিরুদ্ধে সহানুভূতি, এসবও নারী ভোটকে নীরবে প্রভাবিত করেছে। পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী রত্না দেবনাথেরই জয় হলো।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কি তবে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে সেই ‘অভয়া’ ক্ষোভই বড় চালিকাশক্তি হলো?

একটি আধুনিক রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে এখন শুধু নির্বাচিত সরকার বা আমলাতন্ত্রই যথেষ্ট নয়। এর জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, গভীর নীতি-বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনায় দক্ষ একটি সংগঠিত ‘রাষ্ট্রীয় মস্তিষ্ক’। এই মস্তিষ্কের একটি দৃশ্যমান অংশ হলো উন্মুক্ত ও গবেষণাধর্মী রাষ্ট্রীয় থিংক ট্যাঙ্ক।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রচারণা মতে, গত ১০ মে ছিল বিশ্ব মা দিবস। আর এ দিবসকে ঘিরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এমনকি বাস্তব নাগরিক দেখাসাক্ষাতেও নানামাত্রিক আবেগের প্রকাশ যথেষ্টই দেখা গেছে। তা দেখা যাবেই-বা না কেন!
৬ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারেজ মেগা প্রকল্প’ অনুমোদন পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের মানুষ আর কৃষকেরা এমন একটা প্রকল্পের আশায় বুক বেঁধে বসেছিলেন।
৭ ঘণ্টা আগে
চলতি মাসের প্রথমার্ধে বেইজিং যেভাবে পর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সবশেষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আতিথেয়তা দিল, তা বিশ্বশক্তির চিরচেনা ভারসাম্যকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে