মর্গ উপচে পড়ছে লাশ, সংরক্ষণে দিশাহারা নেপাল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নেপালে বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ খুঁজতে মর্গগুলোতে ছুটছে স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত।
নেপালে বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ খুঁজতে মর্গগুলোতে ছুটছে স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত।

নেপালের আকস্মিক বন্যার চতুর্থ দিনেও মিলছে মরদেহ। সরকারি হিসাবে, মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৭৯-তে। এখনো নিখোঁজ ১ হাজার ৯২৮ জন, যাদের মধ্যে ৫৭৫ জন বিদেশি। উদ্ধার অভিযান চলছে, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলছে মরদেহ। অনেক মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও সংরক্ষণে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশটিকে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোতেকোশির প্রবল বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ মিলছে ভাটি অঞ্চলের জেলাগুলোতে। নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হাসপাতালগুলোতে লাশ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশেষ করে চিতওয়ান ও পোখারার হাসপাতালগুলো মরদেহ সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে।

কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলার মানুষের মরদেহ পাওয়া গেছে নদীর ভাটি অঞ্চল চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি এবং অন্যান্য এলাকায়। নুয়াকোট, ধাদিং এবং নাওয়ালপারাসির মর্গগুলোর জায়গা ফুরিয়ে এসেছে। কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিতওয়ানের হাসপাতালের মর্গ ভরে ওঠায় অস্থায়ী মর্গ তৈরি করা হয়েছে।

চিতওয়ানে ত্রিশূলি এবং নারায়ণী নদীর পাশ থেকে ১৭৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে ৭৪ জন পুরুষ, ৪১ জন নারী, ৬ জন ছেলে ও ২ জন মেয়েশিশু রয়েছে। এ ছাড়া ৫৫ জনের বিচ্ছিন্ন দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজদের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করেছেন মরদেহের খোঁজ পেতে।

মরদেহগুলো শনাক্তের জন্য ভরতপুর হাসপাতালের পাশের একটি কক্ষে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহের ছবি, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত করছে। এছাড়া যেসব মরদেহ দেখে চেনা সম্ভব সেগুলোর ছবি নেপাল পুলিশ পোর্টালে প্রকাশ করা হচ্ছে।

চিতওয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মর্গে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা যায়। এখন অস্থায়ী যে মর্গ তৈরি করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখা যাবে। ভরতপুর মহানগরীর বিদ্যুৎ রোডের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’–এর একটি পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত