দিল্লিতে ভবন ধসে নিহত চার, আটকাপড়াদের উদ্ধারে ১৬ ঘণ্টা ধরে চলছে অভিযান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১৬: ১৩
ভারতের দক্ষিণ দিল্লিতে একটি পাঁচতলা ভবন ধসে চারজন নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দক্ষিণ দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে পাঁচতলা ভবন ধসে চারজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন আরও অনেকে। তাদের উদ্ধারে ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। খবর এনডিটিভির।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই ভবনটি ধসে পড়ায় অনেকে বের হতে পারেননি। রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের মতো মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভবনটিতে একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও একাধিক অফিস ছিল। দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ওপরের তলায় নির্মাণকাজ চলছিল। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক কাটার, ভিকটিম-লোকেশন ক্যামেরা ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে তাঁর কার্যালয়ের এক্স-হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, গতকাল রাত থেকেই উদ্ধারকারী দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। এ ঘটনায় মেহরৌলি থানায় একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আশপাশের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ওই পোস্টে বলা হয়।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যার’ মামলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

‘ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শুধু চিৎকার শোনা যাচ্ছিল’

ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, পুরো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছিল।

স্থানীয় একজন বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শুধু চিৎকারই শোনা যাচ্ছিল। চারদিকে ধুলোর বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। ধুলো কিছুটা সরলে বুঝতে পারি, পাশের একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা বলেন, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনটি ভেঙে পড়ে। মানুষ চিৎকার করে দৌড়াতে শুরু করেছিল, কিন্তু অনেকে বের হওয়ার আগেই আটকা পড়েন।

আরেকজন জানান, কর্মদিবসে ভবনটিতে ২০০ থেকে ৩০০ কর্মী কাজ করতেন। তিনি বলেন, সৌভাগ্যবশত বন্ধের দিন ছিল। না হলে ভবনের ভেতরে মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতো।

সম্পর্কিত