ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তে সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ২২: ২৫
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসির।

ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদন করা হবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য হবে। এতে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না। তবে চুক্তিটি পুরোপুরি নির্ভর করছে সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয় কি না, তার ওপর।

ট্রাম্পের উদ্যোগে ২০২০ সালে চালু হওয়া আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ আরব বিশ্বের দুটি দেশ রয়েছে। পরে সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তানও এই চুক্তিতে যোগ দেয়।

তবে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না।

অবশ্য ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি আরব। এর আগে বুধবার ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি পরমাণু চুক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তি ভবিষ্যতে অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এখনও পরিষ্কার নয়, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি পরমাণু চুক্তির শর্ত হিসেবে লিখিতভাবে রাখা হয়েছে কি না, কিংবা সৌদি আরব এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে কি না।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলে তা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হবে।

তবে ওই বিবৃতিতে পরমাণু চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী নির বারকাত বলেছিলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য সৌদি আরবের পরমাণু শক্তি কর্মসূচি থাকলে তা নিয়ে সমস্যা নেই।

ইসরায়েলের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। তবে দেশটি এ বিষয়ে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির এই চুক্তি একটি ‘শান্তিপূর্ণ পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি’। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের পরমাণু জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির বিরোধ চলছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০১৮ সালে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, তার দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে না। তবে ইরান যদি পরমাণু বোমা তৈরি করে, তাহলে সৌদিও একই পথে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হলেও এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে এমন সম্ভাবনা নাকচ করেছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে ‘খুবই বিস্ময়কর’ বিষয়।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কোনো দেশকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করেনি। কারণ কোনো দেশ নিজেই পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন করতে পারলে তা পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাঠানো হবে।

ধারণা করা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের কিছু আইনপ্রণেতা এই চুক্তির বিরোধিতা করবেন। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিরোধীদের পক্ষে চুক্তি আটকে দেওয়া কঠিন হতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত