ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনার আগে সৌদি ও তুরস্কে যাচ্ছেন শেহবাজ শরিফ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ৩৮
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার ভেন্যুর সামনে টাঙানো একটি বিলবোর্ড। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার আগে চলতি সপ্তাহেই সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁকে জানিয়েছেন যে তিনি অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং নতুন করে সংলাপ শুরু করার চেষ্টা করছেন। এই উদ্যোগ এমন এক সময় নেওয়া হচ্ছে, যখন দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা স্থগিত রয়েছে।

আসিফ আলী জারদারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, যাতে শান্তি প্রক্রিয়া টিকে থাকে।

এর আগের দিন নতুন করে আলোচনা আয়োজনের খবরটি প্রকাশ্যে এলেও তা নিশ্চিত হয়নি। তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘের বক্তব্যে শাহবাজ শরিফের এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়।

মঙ্গলবার নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রথমে তিনি বলেছিলেন আলোচনা ইউরোপে হতে পারে, পরে ফোন করে জানান, ইসলামাবাদে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি ‘চমৎকার কাজ করছেন’।

এদিকে সংবাদ সংস্থা এপির এক খবরে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন আরও আলোচনায় সম্মত হয়েছে, তবে স্থান, সময় ও প্রতিনিধিদলের গঠন এখনও ঠিক হয়নি।

ওই কর্মকর্তার মতে, সম্ভাব্য আয়োজক শহর হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই বেশি’।

সম্ভাব্য এই আলোচনায় ফেরার বিষয়টি শাহবাজ শরিফ ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক দক্ষতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ জারি রেখেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে যায়।

গুতেরেস বলেন, ‘এত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা প্রথম বৈঠকেই সমাধান হবে—এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং সেই সময় যুদ্ধবিরতিও বজায় রাখতে হবে।’

ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার কামাল হায়দার বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই স্বীকার করছে যে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে।’

ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, মঙ্গলবার ফোনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত