মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিজ দলের কংগ্রেসম্যানের
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক ম্যাসি মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ তুলে ধরেন।
ম্যাসির অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন হেগসেথ। একই সঙ্গে সামরিক অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেননি তিনি।
প্রতিনিধি পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ম্যাসি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে পাওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন হেগসেথ। সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবিধানের সীমাবদ্ধতা ও যুদ্ধ পরিচালনা-সংক্রান্ত আইনকে নিজের নীতিগত লক্ষ্য পূরণে ব্যবহার করেছেন তিনি।
ম্যাসি আরও অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়েও হেগসেথের যথেষ্ট উদ্বেগ নেই।
তিনি এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তা আগে থেকে রিপাবলিকান কোনো নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেননি বলে জানান ম্যাসি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক হতাহত কমানো এবং যুদ্ধের সময় আইন মেনে চলার জন্য মার্কিন বাহিনীর নিয়ম নিয়ে হেগসেথের আগের কিছু মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছে।
হেগসেথ এসব নিয়মকে ‘বোকামিপূর্ণ’ ও ‘রাজনৈতিকভাবে সঠিক’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের নিয়ম সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে।
ম্যাসির আনা অভিশংসন প্রস্তাব আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটে উঠতে পারে। তবে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এদিকে হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পেন্টাগন। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলি উইলসন রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, পুরো প্রতিরক্ষা বিভাগ হেগসেথের নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি ঐক্যবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন সেনাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা কাজ চালিয়ে যাবে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশের সমর্থন থাকলেও দলের ভেতর ভিন্নমত রয়েছে। থমাস ম্যাসি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনের মতো কয়েকজন ডানপন্থি ব্যক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক হস্তক্ষেপনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আসছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
.png)






