কঙ্গোতে ইবোলায় ৬৫ মৃত্যু

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১৯: ৪৪
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটিতে ইবোলায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন মারা যায়। ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ইতুরিতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি আফ্রিকা) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৪৬ জন আক্রান্ত এবং অন্তত ৬৫ জন মারা গেছে। খবর বিবিসি

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আক্রান্তদের বেশির ভাগই স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মঙ্গওয়ালু ও রওয়ামপারা শহরের বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদানসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায়ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।

ডিআর কঙ্গোতেই ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড়ের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। কঙ্গোর ইতিহাসে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। এর ফলে তীব্র রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকলসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। এখনো এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।

দেশটির রাজধানী কিনশাসার ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ডি রেচেচে বায়োমেডিকাল (আইএনআরবি) পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এসব পরীক্ষা দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে করা হয়।

সিডিসি আফ্রিকা জানায়, মারা যাওয়া ৬৫ জনের মধ্যে চারজনের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়াতেও নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে তাদের পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি।

ডিআর কঙ্গো সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেনি। তবে দেশটির এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২১ সাল থেকে ইতুরি অঞ্চলটি সামরিক প্রশাসনের অধীনে। এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দমনে সেখানে সামরিক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এডিএফ) অন্যতম।

গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডিআর কঙ্গোতে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। তখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ প্রাণ হারান। গত বছর দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় কাসাই প্রদেশে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মারা যান ৪৫ জন।

সম্পর্কিত