দুই সেনা হারিয়ে ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯: ২৫
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহতের জেরে দেশটিতে ফের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসে বিমান হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর আলজাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনিই এই হামলার অনুমোদন দিয়েছেন।

ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কাছাকাছি কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা মার্কিন যুদ্ধবিমানের হামলার কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাসনিমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলা হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ তিন থেকে পাঁচটি ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতের কথা বলেছেন।

তাসনিম আরও জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। দ্বীপে থাকা তাদের সংবাদদাতার বরাতে সংস্থাটি জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে একাধিকবার মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রােন ছুড়ছে ইরান। এর মধ্যে শুক্রবার জর্ডানে এমন এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত ও একজন নিখোঁজ হয়েছেন।

সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করাই এসব হামলার উদ্দেশ্য। তারা রসদ সরবরাহ কেন্দ্র, অস্ত্রের গুদাম এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। গত শনিবার ইরানের সেতু ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলাও হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সেন্টকম।

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর সবমিলিয়ে এটি ছিল টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানে মার্কিন বিমান হামলা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ

কেশম দ্বীপ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা কেশম দ্বীপ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে এটি ইরানের একটি ‘অডুবনীয় বিমানবাহী জাহাজ’ হিসেবে পরিচিত। দ্বীপটির মাটির নিচে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিশাল সুড়ঙ্গ এবং গোপন ক্ষেপণাস্ত্র শহর। এখানে বিপুল পরিমাণ আধুনিক মিসাইল, রকেট ও ড্রোন মজুত রাখা হয়েছে, যা যেকোনো আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানের জন্য বড় শক্তির উৎস।

দ্বীপটির লবণগুহা এবং জটিল পাহাড়ি ভূখণ্ড সামরিক সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে এবং শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। এর উপকূল থেকে দ্রুত আক্রমণকারী নৌযান পরিচালনা করে হরমুজ প্রণালি সহজেই বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত