রাষ্ট্রের টাকার উচ্চশিক্ষা, জুলাইয়ের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটা বদল এলো

ড. খালিদুর রহমান
ড. খালিদুর রহমান

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫: ২৬
স্ট্রিম গ্রাফিক্স

রাষ্ট্রের অর্থের প্রতিটি অংশ আসে দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আয় থেকে। একজন কৃষকের উৎপাদন, একজন শ্রমিকের ঘাম, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর প্রতিদিনের লেনদেন, একজন চাকরিজীবীর কর প্রদান, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে একজন ভিক্ষুকের পরিশোধ করা মূল্য সংযোজন করও রাষ্ট্রের রাজস্বভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে। সেই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় শিক্ষা খাতে, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায়।

বাংলাদেশ সরকারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দ কয়েক হাজার কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৫৫টির বেশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১০টির বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম; অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিক্ষাব্যয়ের মাত্র ৫-১০ শতাংশ তিনি নিজে বহন করেন, বাকিটা জনগণের অর্থ থেকে ভর্তুকি হিসেবে আসে।

এই বাস্তবতা থেকেই বোঝা যায়, উচ্চশিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির সিঁড়ি নয়; এটি জনগণের সঙ্গে শিক্ষার্থীর এক গভীর সামাজিক চুক্তি। রাষ্ট্র শিক্ষার্থীর ওপর বিনিয়োগ করে এই প্রত্যাশায় যে সে ভবিষ্যতে দক্ষ, সৎ, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে পরিবর্তন ঘটে, তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও নতুন মাত্রা লাভ করে। দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী ও জবাবদিহিহীন শাসনের অবসানের পর মানুষ আশা করেছিল, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, দেশপ্রেম, জনকল্যাণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাষ্ট্রের সম্পদের প্রতি দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনে আরও অগ্রসর হবে। প্রত্যাশা ছিল তারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতের সুশাসনের ভিত্তি রচনা করবে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে জুলাই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু আচরণ ও ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে, যা এই প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোথাও ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের প্রবণতা, কোথাও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার, কোথাও জনসম্পদের প্রতি অযত্ন কিংবা অপচয়ের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখানে স্পষ্টভাবে বলা জরুরি যে, এ ধরনের অভিযোগ সমগ্র শিক্ষার্থীসমাজকে নির্দেশ করে না; বরং কিছু শিক্ষার্থীর আচরণই বৃহত্তর শিক্ষার্থীসমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি ব্যক্তি নয়, মূল্যবোধের আলোকে বিবেচনা করা জরুরি।

উচ্চশিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির সিঁড়ি নয়; এটি জনগণের সঙ্গে শিক্ষার্থীর এক গভীর সামাজিক চুক্তি। রাষ্ট্র শিক্ষার্থীর ওপর বিনিয়োগ করে এই প্রত্যাশায় যে সে ভবিষ্যতে দক্ষ, সৎ, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সরকারি সম্পদের প্রতি প্রত্যাশিত দায়িত্ববোধ সব সময় দেখা যায় না। আসবাবপত্র নষ্ট করা, দেয়ালে অপ্রয়োজনীয় লেখা, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি অযত্নে ব্যবহার, গ্রন্থাগারের বই ক্ষতিগ্রস্ত করা, আবাসিক হলের সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদের তুলনায় কম গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় অপচয় সৃষ্টি করা কোনোভাবেই শিক্ষার্থীর পরিচয় হতে পারে না। এসব আচরণ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে না; এগুলো সরাসরি জনগণের অর্থের অপচয়ে পরিণত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট হয় এবং বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ঘটে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ও বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি ভবনগুলোতে শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ালে ১৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি কেবল ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে, তাহলে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নতুন গবেষণাগার, বৃত্তি বা শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যয় করা যেতে পারে।

উচ্চশিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল একটি ডিগ্রি অর্জন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি স্থান, যেখানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি চরিত্র, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং জনদায়িত্বের চর্চা হওয়ার কথা। একজন শিক্ষার্থী যদি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে জনসম্পদের মূল্য বুঝতে না শেখে, তাহলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও একই ধরনের অসচেতনতা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিপরীতে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই যদি সে উপলব্ধি করে যে প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতি, প্রতিটি বই, প্রতিটি গবেষণা সরঞ্জাম, প্রতিটি বাস ও প্রতিটি ভবনের পেছনে জনগণের অবদান রয়েছে, তাহলে সেই উপলব্ধি তার সমগ্র কর্মজীবনকে প্রভাবিত করবে।

বিদেশের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে শিক্ষণীয়। জার্মানিতে অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি নেই বা খুবই সামান্য। সেখানে শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই বোঝানো হয় যে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করছে করদাতারা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে “পাবলিক ট্রাস্ট” বা জনআস্থার ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পদ ব্যবহারের নীতিমালা শেখানো হয়। একইভাবে ফিনল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের নাগরিক শিক্ষা ও জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাধ্যতামূলক ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য “কমিউনিটি অ্যান্ড ন্যাশনাল রেসপনসিবিলিটি” বিষয়ক প্রশিক্ষণ রয়েছে, যেখানে সরকারি ভর্তুকির অর্থনৈতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিত রাষ্ট্রের ভর্তুকিকে সুবিধা হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা। কম টিউশন ফি, ভর্তুকিপ্রাপ্ত আবাসন, গবেষণা সহায়তা, পরিবহন সুবিধা কিংবা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সেবা তাদের ব্যক্তিগত অধিকার হলেও এগুলোর অর্থায়ন জনগণের করের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই এসব সুবিধার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপচয় রোধ করা, সম্পদ সংরক্ষণ করা এবং অন্যদেরও সচেতন করা শিক্ষার্থীদের নৈতিক কর্তব্য। দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ কেবল স্লোগানে নয়; জনগণের অর্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং রাষ্ট্রের সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মধ্যেও তা প্রতিফলিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই সমাজ ভবিষ্যতের শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিচারক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা করে। ফলে জনসম্পদের প্রতি দায়িত্বশীলতা তাদের জন্য অতিরিক্ত গুণ নয়; এটি পেশাগত সততার ভিত্তি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশে তরুণ বয়স থেকেই নাগরিক নৈতিকতা ও জবাবদিহির শিক্ষা জোরদার করা হয়, সেসব দেশে সরকারি খাতে দুর্নীতির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই সমাজ ভবিষ্যতের শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিচারক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা করে। ফলে জনসম্পদের প্রতি দায়িত্বশীলতা তাদের জন্য অতিরিক্ত গুণ নয়; এটি পেশাগত সততার ভিত্তি।

তবে এই দায়িত্ব কেবল শিক্ষার্থীদের একার নয়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপাচার্য, অধ্যক্ষ কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক নেতৃত্বের ওপরও সমান, এমনকি আরও বড় দায়িত্ব বর্তায়। তারা কেবল প্রশাসনিক প্রধান নন; তারা একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের অভিভাবক। তাদের সিদ্ধান্ত, আচরণ ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিই প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক চরিত্র নির্ধারণ করে।

বর্তমান বাস্তবতায় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে। বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগও সামনে আসে যে কিছু প্রতিষ্ঠানপ্রধান নীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে নিজস্ব অবস্থান বা প্রশাসনিক সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখাকে অগ্রাধিকার দেন। এমন প্রবণতা যদি কোথাও থেকে থাকে, তবে তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের কাছেও ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। কারণ নেতৃত্ব যখন নৈতিক আপসের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তখন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিও দুর্বল হয়ে পড়ে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানের প্রথম দায়িত্ব হলো জনগণের অর্থকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ব্যয় যেন যৌক্তিক, স্বচ্ছ ও প্রয়োজনভিত্তিক হয়, তা নিশ্চিত করা তার অন্যতম কর্তব্য। সরকারি অর্থের প্রতিটি ব্যয়কে এমনভাবে বিবেচনা করতে হবে যেন সেটি ব্যক্তিগত নয়, লাখো মানুষের কষ্টার্জিত অবদানের সঠিক ব্যবহার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের উচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা। নবীনবরণ, ওরিয়েন্টেশন, শ্রেণিকক্ষের আলোচনা, প্রশাসনিক নির্দেশনা কিংবা বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বোঝানো যেতে পারে যে তারা যে সুবিধা ভোগ করছেন, তার পেছনে রয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের অবদান। জাপানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়, যাতে তারা জনসম্পদের প্রতি দায়িত্বশীলতা অনুভব করতে শেখে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনুরূপ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

একই সঙ্গে প্রশাসনের নিজের আচরণও হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নীতিনিষ্ঠ। যদি শিক্ষার্থীরা দেখেন যে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল, সরকারি সম্পদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত, ক্রয় ও ব্যয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রয়েছে এবং অপচয় কিংবা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করছে, তাহলে তারাও সেই সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠবে। নেতৃত্বের সর্বোত্তম শিক্ষা বক্তৃতায় নয়, আচরণে নিহিত থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত, যেখানে জনসম্পদ রক্ষাকে কেবল প্রশাসনিক বিধি হিসেবে নয়, একাডেমিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা হবে। যে শিক্ষার্থী একটি বই যত্নে ব্যবহার করেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদ্যুৎ অপচয় করেন না, গবেষণাগারের সরঞ্জাম সংরক্ষণ করেন কিংবা ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখেন, তিনি প্রকৃত অর্থেই উচ্চশিক্ষার মূল্যবোধ ধারণ করছেন। একইভাবে যে প্রশাসন প্রতিটি সরকারি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করে না, সে প্রশাসন জনগণের আস্থা অর্জন করে।

উচ্চশিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম ভিত্তি। সেই ভিত্তি তখনই শক্তিশালী হবে, যখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের জনগণের অর্থে গড়ে ওঠা একটি আস্থার অংশ হিসেবে দেখবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানরা নিজেদের জনগণের সম্পদের বিশ্বস্ত অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

২০২৪ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার পর যে নৈতিক পুনর্গঠনের প্রত্যাশা সমাজে সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের অন্যতম ক্ষেত্র হতে পারে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রের ভর্তুকি কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি জনগণের বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিদান হতে পারে সৎ নেতৃত্ব, দায়িত্বশীল আচরণ, দেশপ্রেম, জনসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় যদি এই মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিটি স্নাতক শুধু একটি ডিগ্রির অধিকারী হবে না; সে জনগণের অর্থের মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ একজন সচেতন নাগরিক এবং ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল নেতৃত্বে পরিণত হবে।

  • ড. খালিদুর রহমান: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক
Ad 300x250

সম্পর্কিত