ফ্লোটিলা কর্মীদের নির্যাতন

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধ’ অভিযোগের তদন্ত শুরু ফ্রান্সে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ২৩ মে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে বক্তব্য দেন 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা'র ফরাসি সদস্য আদ্রিয়েন। ছবি: সংগৃহীত

গাজাগামী ত্রাণ বহরে (ফ্লোটিলা) ফরাসি অধিকারকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর আচরণ নিয়ে ‘নির্যাতন’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে ফ্রান্স। খবর আল-জাজিরার।

গত মাসে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীরা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে আটক থাকার সময় তীব্র নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এরপর মাসের শেষ দিকে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি রেফারেল বা সুপারিশের ভিত্তিতে শুক্রবার এই তদন্ত শুরু হয় বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটরের কার্যালয় (পিএনএটি)।

গাজা অবরোধ ভাঙার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যাওয়া ওই ত্রাণ বহরকে গত ১৮ মে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাধা দেয় ইসরায়েল। তারা প্রায় ৪০টি দেশের ৪৩০ কর্মীকে অপহরণ ও আটক করে। অথচ জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর এই অবরোধকে অবৈধ এবং এক ধরনের ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে বলে আসছে।

ওই সময় ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির ত্রাণ বহরের কর্মীদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উপহাস করে একটি ভিডিও পোস্ট করায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েন। এই ঘটনার জেরে ফ্রান্স বেন-গ্যভিরের ওপর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেশ এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

গত ২২ মে আটজন ফরাসি দেশে ফেরার পর তাঁদের প্রতি সহিংস আচরণ ও অপমানজনক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তারা সাংবাদিকদের জানান, ত্রাণ বহরে থাকা ৩০ জনের বেশি ফরাসি নাগরিকের মধ্যে দুজন এখনও তুরস্কের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফিরে আসা একজন কর্মী বলেন, একটি অন্ধকার কন্টেইনারের ভেতর একজন সেনা সদস্য তাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে এবং চড় মারে। ওই সময় তিনি ধর্ষণের শিকার হওয়ার তীব্র আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।

আরেকজন কর্মী জানান, আটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। ওই সময় অনবরত ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছিল।

দশকের মধ্যে ‘সবচেয়ে খারাপ দুর্ব্যবহারের’ ঘটনা

গত মাসের শেষে আল-জাজিরার সঙ্গে আলাপে ফিলিস্তিনি অধিকারবিষয়ক ইসরায়েলি আইনি কেন্দ্র ‘আদালাহ’র আইনি পরিচালক সুহাদ বিশারা বলেন, জবাবদিহিতা না থাকলে ইসরায়েল এভাবে সহিংসতা চালাতেই থাকবে।

তিনি বলেন, প্রাপ্ত বিবরণ এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে ফ্লোটিলা অংশগ্রহণকারীদের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এটি গত ১০ বছরে নথিভুক্ত হওয়া সর্বাধিক দুর্ব্যবহারের ঘটনা, যা সম্ভাব্য নির্যাতনের শামিল।

আদালাহ’র আইনজীবীদের জানানো হয়েছে, সেখানে বারবার শারীরিক সহিংসতা চালানো হয়েছে, যার ফলে গুরুতর জখম, দীর্ঘ সময় ধরে কষ্টদায়ক অবস্থানে রাখা এবং যৌন হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।

‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, তারা অন্তত ১৫টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।

ফরাসি ফ্লোটিলা কর্মীদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা ধর্ষণ, নির্যাতন ও অপমানের অভিযোগ এনে তাদের মক্কেলদের পক্ষে একটি পৃথক মামলা করার পরিকল্পনা করছেন।

তবে অধিকার কর্মীরা ফরাসি সরকারের সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা ফরাসি সরকারের বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলের চালানো ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’কে সমর্থন করার অভিযোগ এনেছেন।

ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এই দুর্ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা দাবি করে, এই অভিযোগগুলো ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’।

সম্পর্কিত