জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

মার্কিন জাহাজকে ইরানি জলসীমা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৫৬
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে তাদের দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই নতুন নির্দেশ জারি করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রকাশিত বার্তায় মার্কিন জাহাজের ক্যাপ্টেনদের ইরানি বাহিনীকে জাহাজে ওঠার অনুমতি না দিতে বলা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, যদি ইরানি বাহিনী কোনো মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ওঠে, তাহলে নাবিকরা যেন জোরপূর্বক প্রতিরোধ না করে, তবে এর মাধ্যমে জাহাজে ওঠার সম্মতি বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এছাড়াও মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই জলসীমা অতিক্রম করার সময় ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে পূর্বমুখী জাহাজগুলোকে ওমানের জলসীমার কাছাকাছি দিয়ে চলাচলের সুপারিশ করা হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও হুমকি দেশ দুটিকে প্রায় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে আলোচনায় বসে। বৈঠকের পরই সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই নির্দেশ আসে।

হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল চেকপয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই নৌপথকে উৎপাদনকারী অঞ্চলের সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার বলা হয়। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ট্যাংকার যুদ্ধ, ২০১৯ সালে ওমান উপসাগরে জাহাজে নাশকতা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লোহিত সাগরে হামলার ঘটনায় এই অঞ্চলের নৌ নিরাপত্তা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন।

ডিসেম্বরে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালাবে। ২০২৫ এর জুনে ইরানে ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালালে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উপস্থিতি বাড়ায় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু হলে হামলার হুমকি দেন। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে বলে জানান তিনি।

ইরান বলছে, আলোচনা শুধুই পারমাণবিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়েও শর্ত আরোপ করতে চায়। ইউরেনিয়াম প্রসঙ্গে ইরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের সার্বভৌম অধিকার এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির অঙ্গীকার লঙ্ঘন করে না।

Ad 300x250

সম্পর্কিত