কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড

দেবাশীষ-আফসানাসহ চারজনের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনেরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৩১
কলাকাতায় হোটেলে আগুনে নিহত দম্পতি দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন। সংগৃহীত ছবি
কলাকাতায় হোটেলে আগুনে নিহত দম্পতি দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন। সংগৃহীত ছবি

ভারতের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী-পুত্র ও শ্বশুরের মরদেহে দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল শুক্রবার তাঁদের মরদেহ কুষ্টিয়ায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছে পরিবার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কলকাতার আত্মীয়ের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন দেবাশীষের স্বজনেরা।

তারা জানান, আজ কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে। তার আগপর্যন্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ সংরক্ষণ করা হবে।

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় থাতেন দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবার। সেখানে প্রিয়জনদের শেষবারের মতো একবার দেখার জন্য অপেক্ষায় স্বজনদের দিন কাটছে শোক আর কান্নায়। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর দুটি ভিন্ন ধর্মীয় রীতিতে তাঁদের শেষকৃত্য ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯) ও শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্তের (৩) শেষকৃত্য সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে। এর জন্য ইতোমধ্যে শ্মশানে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন (২৭) ও তাঁর বাবা আকরাম আলীর (৬৪) দাফন ইসলামি রীতিতে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে সম্পন্ন হবে।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় ১১ বছর আগে ভালোবাসার সম্পর্কের সূত্রে দেবাশীষ ও আফসানার বিয়ে হয়। বিয়ের পরও দেবাশীষ সনাতন ধর্ম ও আফসানা মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় বজায় রেখেছিলেন। ধর্মান্তরিত না হয়েও দেবাশীষের পরিবারের সদস্য হিসেবেই নিজের ধর্ম পালন করতেন আফসানা। স্থানীয়রা একে অসাম্প্রদায়িকতা চর্চা হিসেবে দেখত।

আফসানার বড় বোন আফরিন ফারজানা মেঘলা জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকাকালে আফসানা তাঁকে বলেছিলেন— আমি যদি মারা যাই, তাহলে আমাকে কবর দিও। বোনের সেই শেষ ইচ্ছায় তাঁকে ইসলামি রীতিতে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। এ বিষয়ে দেবাশীষের পরিবার থেকেও কোনো আপত্তি নেই।

পুত্রবধূ ও নাতিসহ ছেলের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত। স্বজনদের কাছে কেঁদে উঠে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার থেকে ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি চলে গেল...।’ পুত্রবধূর দাফন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আফসানার পরিবার তাঁদের মেয়ের শেষকৃত্য যেভাবে ইচ্ছা সম্পন্ন করতে পারে, এতে তাঁদের কোনো দ্বিমত নেই।

এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) কলকাতার নিউজমার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ ৯ জন নিহত হন। এতে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে চারজনই কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্য। অগ্নিকাণ্ডে হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। এছাড়া হোটেলের দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়ে বলে জানা গেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

দেবাশীষ-আফসানাসহ চারজনের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনেরা