বিজেপি সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের হামলায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি সমর্থিত হিন্দুত্ববাদী অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর (এসএফআই ও ডিএসও-ডিএসএফ) সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (ফেটসু) সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বাম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বাঁশের লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে বহিরাগত এবিভিপির কর্মীরা মিটিংয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা অভিযোগ করেন, হামলার এক পর্যায়ে অরবিন্দ ভবনে অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে ও ক্যাম্পাসে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবিভিপির কর্মীরা।

অন্যদিকে এবিভিপির দাবি, ফেটসুর মিটিংকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের নেতা নিখিল দাসের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল।

দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সহিংসতার সময় অরবিন্দ ভবনের ভেতরে আটকে পড়া কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ নবাব এক ভিডিও বার্তায় জানান, ‘এবিভিপির দুষ্কৃতকারীরা ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের মারধর করছে এবং আমরা অরবিন্দ ভবনে আটকা পড়ে আছি। বাইরে তারা মূল গেট ভাঙার চেষ্টা করছে ও আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।’

বহিরাগতরা এ সময় ‘আশু পাঠশালা’ নামের একটি পোস্টার, দলীয় পতাকা ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। বুধবার রাতের এই সহিংসতা বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে আরও তীব্র রূপ নেয়। শহরের রাজা সুবোধ মল্লিক রোডে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এবিভিপি সমর্থকরা ৪ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছায় এবং ভেতরে অবস্থানরত বাম সংগঠনগুলোর দিকে ডিম, পানির বোতল ও লাঠি ছুড়তে থাকে।

এবিভিপি নেতা শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘কেউ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আটকাতে পারবে না। দিনে না পারলে রাতে যাব। বিজেপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই।’

ক্যাম্পাসের বাইরে সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর এবং এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবঅঞ্জন দে-র নেতৃত্বে বাম সমর্থকরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দীপ্সিতা ধর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতরাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এদের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-গুণ্ডা অ্যাক্টে কেন মামলা হচ্ছে না? ইতিহাস সাক্ষী যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পোড়ানোর চেষ্টা করেছে সে নিজেই মুছে গেছে।’

দেবঅঞ্জন দে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, সাহস থাকলে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়া হোক, বাংলার ছাত্রসমাজ এবিভিপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।

পশ্চিমবঙ্গের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক্সে লেখেন, ‘আহত নিখিল দাস ও অন্যদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। “দিমাগি নকশালদের” বিরুদ্ধে মতাদর্শিক লড়াই চলবে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর চিন্তাভাবনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দেশের আইন প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং নিরাপত্তা থাকা প্রয়োজন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির বিচারে তদন্ত কমিটি গঠন হবে।’

বিজেপির রাজ্য জয়ের তিন মাসের মাথায় ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন সংঘর্ষ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

বিজেপি সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের হামলায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র