সুন্দরবনে বনকর্মীর গুলিতে জেলের মৃত্যু, প্রতিবাদে রেঞ্জ অফিস ভাঙচুর

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ২১: ১৪
সুন্দরবন। সংগৃহীত ছবি

পশ্চিম সুন্দরবন বনবিভাগের ‘স্মার্ট পেট্রোল টিম’-এর সদস্যদের গুলিতে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেলে সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনীতে বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে বনবিভাগের চারজন কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহত আমিনুর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের মৃত আকছেদ গাজীর ছেলে। আজ দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে লোকালয়ে ফিরে আসেন অন্য জেলেরা। আমিনুরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নিহত জেলের সহকর্মী আহাম্মাদ আলী, সেলিম ও রমজানের বরাতে স্থানীয়রা জানান, তাঁরা চারজন গত ১৩ মে (বুধবার) সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের পাস নিয়ে কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে যান। গত রোববার রাতে বাতাসের কারণে তাঁদের নৌকাটি অভয়ারণ্য এলাকায় চলে যায়। আজ সোমবার সেখান থেকে ফেরার সময় বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিম তাঁদের আটক করে। বনকর্মীরা নৌকা জব্দ করে জেলেদের বনের ভেতরে রেখে যেতে চাইলে তাঁরা বাধা দেন। একপর্যায়ে এক বনকর্মী গুলি ছুড়লে আমিনুর গুলিবিদ্ধ হন।

জেলেদের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ আমিনুরকে উদ্ধার বা চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই বনকর্মীরা চলে যান। পরে অন্য জেলেরা দুপুর দেড়টার দিকে আমিনুরকে উদ্ধার করে লোকালয়ে আনার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জেরে বিকেল ৪টার দিকে বুড়িগোয়ালিনীর বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসে হামলা চালানো হয়। হামলায় বনকর্মী তপন মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর আহত হন।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, ‘হঠাৎ লোকজন এসে অফিসে হামলা ও লুটপাট চালায়। হামলায় চারজন কর্মী আহত হয়েছেন।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, গুলিতে জেলের মৃত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওসি আরও জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম তাঁর লোকজন নিয়ে বনবিভাগের অফিস ঘেরাও করে ভাঙচুর করেছেন।

এদিকে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম বলেন, ‘বনবিভাগের গুলিতে জেলের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং তাঁর পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছে।’

তিনি দাবি করেন, মরদেহ নিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বনবিভাগের অফিসে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

সম্পর্কিত