কয়েক ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধনের লক্ষ্য, সিঙ্গাপুরের আদলে বদলাচ্ছে আরজেএসসি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ১০
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়ন নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগৃহীত ছবি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়ন নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগৃহীত ছবি

কোম্পানি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে পুরো কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের দ্রুত ব্যবসা নিবন্ধন ব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) জন্য চালু করা হচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক ব্যবসা নিবন্ধন ব্যবস্থা’।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়ন নিয়ে এক সভায় নতুন ব্যবস্থার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই কোম্পানির নামের ছাড়পত্র থেকে নিবন্ধন পর্যন্ত সব কাজ করতে পারবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোম্পানি নিবন্ধন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য গ্রাহকদের আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে নিবন্ধনের সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা যেকোনো সময় অনলাইনে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের তথ্য যাচাই ও জালিয়াতি ঠেকাতে জাতীয় পরিচয়পত্র, ই-টিন ও মোবাইল নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে। ফলে ভুল বা অসংগত তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কোম্পানি গঠনের প্রক্রিয়াও সহজ হচ্ছে

কোম্পানি গঠনের প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে উদ্যোক্তাদের তিন ধরনের সুযোগ থাকবে।

এগুলো হলো—মানসম্মত নমুনা সংঘস্মারক ও সংঘবিধি, ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী ধারা যোগ করার সুযোগসহ নিজস্ব সংঘস্মারক ও সংঘবিধি এবং আগে থেকেই অনুমোদিত মানসম্মত সংঘস্মারক ও সংঘবিধি।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বিশেষ করে নমুনা ও আগে থেকে অনুমোদিত নথি ব্যবহার করলে যাচাই ও অনুমোদনের সময় অনেক কমে আসবে।

নতুন ব্যবস্থার কারিগরি নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষজ্ঞরা সফটওয়্যার তৈরির বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে সফটওয়্যারের নিবন্ধন ব্যবস্থার ব্যবহারকারী যাচাই পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে

নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও স্বয়ংক্রিয় করতে নতুন ব্যবস্থাকে বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন, মোবাইল সিমের তথ্য যাচাইয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং তথ্যের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন লিমিটেড আগামী বছর জানুয়ারিতে সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত রূপান্তর ও হস্তান্তর শেষ করবে।

প্রথম ছয় মাস কয়েক ঘণ্টায় নিবন্ধনের লক্ষ্য

শতভাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোম্পানির নামের ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা আরও নির্ভুল করতে কাজ চলছে। পুরো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর আগ পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের সেবা যেন আটকে না থাকে, সে জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে আরজেএসসি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ছয় মাস আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্মকর্তারা দ্রুত নামের ছাড়পত্র পুনরায় যাচাই করবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র ঠিক থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের নমুনা সংঘস্মারক ও সংঘবিধি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় নাম ছাড়পত্র ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ চলবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে কোম্পানি নিবন্ধনে উদ্যোক্তাদের সময় ও খরচ দুটোই কমবে। সরকারি দপ্তরে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন কমার পাশাপাশি তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ায় সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে।

বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা, নতুন ব্যবসা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পাবেন। সরকারের আশা, আরজেএসসির এই ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও আরজেএসসির নিবন্ধক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত