তাজনিন নিশাত ঋতু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হয়েছে। তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিটি পলিটিক্সে। ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্তরা প্রাধান্য পাচ্ছেন সিটে। তাদের ‘দখলের’ কারণে পিষ্ট সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বরাদ্দ পেলেও নিজের সিটে উঠতে পারছেন না। কেউ যদি ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন, বছরের পর বছর ‘গণরুমে’ গাদাগাদি থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সব জেনেও নির্বিকার প্রশাসন।
জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষরা আবাসিক নীতিমালা মেনে হলের সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। কেউ অবৈধভাবে থাকলে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে স্কোর নির্ধারণ করে সিট দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থী বিশেষ বিবেচনায় সিট পান। এখানে রাজনীতির সুযোগ নেই।’
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আগের সিট বাণিজ্য ও হল দখলের অপসংস্কৃতি এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন বলা যেতে পারে। দলীয় ভিত্তিতে হল দখলের পুরোনো সংস্কৃতি আমরা আর চাই না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে স্নাতকোত্তরে ভর্তি না হলে, স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হল ত্যাগ না করলে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কক্ষ বা আসন পরিবর্তন করলে কিংবা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া টানা ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে সিট বাতিল হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিধান থাকলেও, তা প্রয়োগ করে না প্রশাসন। তাদের দুর্বল নজরদারির সুযোগে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে অনেকেই অবৈধভাবে হলে থাকছেন। আবার বৈধ শিক্ষার্থীরা নিজের সিট পরিচিত বা জুনিয়রের মাধ্যমে দখলে রাখছেন। এতে প্রকৃত আবাসনপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে সিট প্রায় সাড়ে ৭ হাজার। অভিযোগ রয়েছে, এই সংকট পুঁজি করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠনে ভেড়ান। সংগঠন যাঁরা করেন, তাঁরা হলের কক্ষে আরামে থাকতে পারেন। অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল বেডে দুজন করে মানবেতর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈয়দ আমীর আলী হলের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাইসুল নাহার সিয়াম বলেন, ‘তৃতীয় বর্ষে এসে ভালো সিট পাব বলে আবেদন করেছিলাম। গণরুমে পেয়েছি। হল জিমনেশিয়ামকে গণরুম করা হয়েছে।’
তাপসী রাবেয়া হলের গণরুম ‘কলরব’ নামে পরিচিত। সেখানে সিঙ্গেল বেডে দুই শিক্ষার্থীকে থাকতে হয়। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফাতেমা বিনতে আতিয়ার স্ট্রিমকে বলেন, নিজের থাকার জায়গা, বিশ্রাম কিংবা দৈনন্দিন কাজ– সবকিছু অন্যজনের সঙ্গে ভাগ করতে হয়। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য সীমিত হয়ে পড়ে। বিরক্ত লাগলেও, আমরা বাধ্য।
বেগম খালেদা জিয়া হলের গণরুমে থাকা শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার বলেন, ‘গণরুমে থাকতে খুবই অস্বস্তি লাগে। মাঝে মাঝে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি হয়।’
হলের সিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। গত ২৯ জুন আবাসিক হলগুলোতে সিট দখলের অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের অভিযোগ, ছাত্রদল আবার হল দখল ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তবে অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে ছাত্রদল। শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। আর সহসভাপতি শেখ নূর উদ্দিন আবীরের পাল্টা অভিযোগ, সিট বাতিল হলেও, শিবিরের অনেকে বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন। প্রয়োজনে প্রশাসন একযোগে অভিযান চালিয়ে দেখতে পারে।
সম্প্রতি ছাত্রদলের সহবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক নাসিম আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে নাসিম আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পর বৈধ সিট ছেড়ে দিই। পরে কিছুদিন বিভাগের এক জুনিয়রের কক্ষে ছিলাম। এখন হলে নেই। তবে আমার কিছু সরঞ্জাম রয়েছে।’
ড্রপআউট (ঝরে পড়া) হওয়ার পরেও হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের মতিহার হল শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নিশাতের বিরুদ্ধে। অ্যাকাডেমিক বিধি অনুযায়ী ছয় বছরে তিনবার ফেল করায় তিনি ড্রপআউট হয়েছেন। তবে তিনি এখনো মতিহার হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে থাকছেন।
নিজের থাকার জায়গা, বিশ্রাম কিংবা দৈনন্দিন কাজ– সবকিছু অন্যজনের সঙ্গে ভাগ করতে হয়। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য সীমিত হয়ে পড়ে। বিরক্ত লাগলেও, আমরা বাধ্য। ফাতেমা বিনতে আতিয়ার, শিক্ষার্থী, তাপসী রাবেয়া হল
নিশাত স্ট্রিমকে বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ নানা কারণে অ্যাকাডেমিক ব্যর্থতা এসেছে। বিশেষ বিবেচনায় অ্যাকাডেমিক বছর বৃদ্ধির আবেদন করেছি। সিট বাতিলের পরে ছোট ভাইয়ের কক্ষে থাকছি।’
অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। গত এপ্রিলে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে নারী থাকার সন্দেহে তল্লাশির ঘটনায় প্রশাসন ছাত্রশিবির সমর্থিত হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিব জুবায়ের ও শিক্ষার্থী ফোরকান হাফিজ জীমের সিটি বাতিল করে।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সিট বাতিলের পরও কয়েকজনকে আমি একাধিকবার হলে দেখেছি। তল্লাশির বিষয়ে তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।’
গত ১০ আগস্ট শহীদ শামসুজ্জোহা হলে প্রতিবন্ধী কোটায় বরাদ্দ পাওয়া ১৫৬ নম্বর কক্ষে উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দেক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, কক্ষটি তাঁর নামে বরাদ্দ। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই ইয়াসিন নামে ইসলামিক স্টাডিজের এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। বিষয়টি হল প্রশাসন ও হল সংসদের নেতাদের জানিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি মুসাদ্দেকের।
প্রাধ্যক্ষরা আবাসিক নীতিমালা মেনে হলের সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। কেউ অবৈধভাবে থাকলে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অধ্যাপক আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)
হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদের অভিযোগ, ইয়াসিন হল সংসদের নেতাদের প্রশ্রয়ে সিট দখল করে আছেন। তবে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত জোহা হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘ছেলেটি (ইয়াসিন) দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার কাছে চার-পাঁচ দিন থাকার কথা বলেছিল। বিষয়টি প্রাধ্যক্ষকেও জানিয়েছি।’
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আল-আমীন সরকার বলেন, ‘একাধিকবার নোটিশ দিলেও ছেলেটি হল ছাড়েনি। তবে আহতের কথা জানালে, তাঁকে সাময়িকভাবে গণরুমে থাকার অনুমতি দিই।’
আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, মেধাবী, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ১০ শতাংশ সংরক্ষিত। এই কোটার আসন নিয়ে ছাত্র সংগঠনের প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।
গত ১ মার্চ ছাত্রদল নেতা আমির হামজা এবং ৫ এপ্রিল আসিফ উদ্দিনকে আমীর আলী হলে পৃথক নোটিশের মাধ্যমে বিশেষ কোটায় সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুজনই রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান হলে গত ১৯ জুলাই প্রথম দফায় ৬৪ জনকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২ আগস্ট আরও ৩৭ শিক্ষার্থীকে নতুন করে সিট দেওয়া হয়। হল ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল্লাহ বিন রায়হান ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, প্রথম তালিকা প্রকাশের পর ৪০ থেকে ৫০টি সিট ফাঁকা থাকার অভিযোগ ওঠে। শিবিরের প্রতিবাদের পর প্রশাসন পুনরায় বরাদ্দ দিতে বাধ্য হয়।
শিবির সমর্থিত হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, নতুন বরাদ্দের পরও ১৫ থেকে ২০টি আসন ফাঁকা রয়েছে। তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ছাত্রশিবিরের দাবিকে ‘ধারণাপ্রসূত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘হলের সিট কখনো একসঙ্গে খালি হয় না। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হয়েছে। তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিটি পলিটিক্সে। ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্তরা প্রাধান্য পাচ্ছেন সিটে। তাদের ‘দখলের’ কারণে পিষ্ট সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বরাদ্দ পেলেও নিজের সিটে উঠতে পারছেন না। কেউ যদি ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন, বছরের পর বছর ‘গণরুমে’ গাদাগাদি থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সব জেনেও নির্বিকার প্রশাসন।
জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষরা আবাসিক নীতিমালা মেনে হলের সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। কেউ অবৈধভাবে থাকলে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে স্কোর নির্ধারণ করে সিট দেওয়া হয়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থী বিশেষ বিবেচনায় সিট পান। এখানে রাজনীতির সুযোগ নেই।’
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আগের সিট বাণিজ্য ও হল দখলের অপসংস্কৃতি এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন বলা যেতে পারে। দলীয় ভিত্তিতে হল দখলের পুরোনো সংস্কৃতি আমরা আর চাই না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়মিত ব্যাচের সঙ্গে স্নাতকোত্তরে ভর্তি না হলে, স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে হল ত্যাগ না করলে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কক্ষ বা আসন পরিবর্তন করলে কিংবা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া টানা ৬০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে সিট বাতিল হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিধান থাকলেও, তা প্রয়োগ করে না প্রশাসন। তাদের দুর্বল নজরদারির সুযোগে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে অনেকেই অবৈধভাবে হলে থাকছেন। আবার বৈধ শিক্ষার্থীরা নিজের সিট পরিচিত বা জুনিয়রের মাধ্যমে দখলে রাখছেন। এতে প্রকৃত আবাসনপ্রত্যাশীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে সিট প্রায় সাড়ে ৭ হাজার। অভিযোগ রয়েছে, এই সংকট পুঁজি করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠনে ভেড়ান। সংগঠন যাঁরা করেন, তাঁরা হলের কক্ষে আরামে থাকতে পারেন। অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল বেডে দুজন করে মানবেতর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সৈয়দ আমীর আলী হলের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রাইসুল নাহার সিয়াম বলেন, ‘তৃতীয় বর্ষে এসে ভালো সিট পাব বলে আবেদন করেছিলাম। গণরুমে পেয়েছি। হল জিমনেশিয়ামকে গণরুম করা হয়েছে।’
তাপসী রাবেয়া হলের গণরুম ‘কলরব’ নামে পরিচিত। সেখানে সিঙ্গেল বেডে দুই শিক্ষার্থীকে থাকতে হয়। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফাতেমা বিনতে আতিয়ার স্ট্রিমকে বলেন, নিজের থাকার জায়গা, বিশ্রাম কিংবা দৈনন্দিন কাজ– সবকিছু অন্যজনের সঙ্গে ভাগ করতে হয়। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য সীমিত হয়ে পড়ে। বিরক্ত লাগলেও, আমরা বাধ্য।
বেগম খালেদা জিয়া হলের গণরুমে থাকা শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার বলেন, ‘গণরুমে থাকতে খুবই অস্বস্তি লাগে। মাঝে মাঝে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি হয়।’
হলের সিটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। গত ২৯ জুন আবাসিক হলগুলোতে সিট দখলের অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের অভিযোগ, ছাত্রদল আবার হল দখল ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তবে অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে ছাত্রদল। শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। আর সহসভাপতি শেখ নূর উদ্দিন আবীরের পাল্টা অভিযোগ, সিট বাতিল হলেও, শিবিরের অনেকে বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন। প্রয়োজনে প্রশাসন একযোগে অভিযান চালিয়ে দেখতে পারে।
সম্প্রতি ছাত্রদলের সহবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক নাসিম আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে নাসিম আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পর বৈধ সিট ছেড়ে দিই। পরে কিছুদিন বিভাগের এক জুনিয়রের কক্ষে ছিলাম। এখন হলে নেই। তবে আমার কিছু সরঞ্জাম রয়েছে।’
ড্রপআউট (ঝরে পড়া) হওয়ার পরেও হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের মতিহার হল শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নিশাতের বিরুদ্ধে। অ্যাকাডেমিক বিধি অনুযায়ী ছয় বছরে তিনবার ফেল করায় তিনি ড্রপআউট হয়েছেন। তবে তিনি এখনো মতিহার হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে থাকছেন।
নিজের থাকার জায়গা, বিশ্রাম কিংবা দৈনন্দিন কাজ– সবকিছু অন্যজনের সঙ্গে ভাগ করতে হয়। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও স্বাচ্ছন্দ্য সীমিত হয়ে পড়ে। বিরক্ত লাগলেও, আমরা বাধ্য। ফাতেমা বিনতে আতিয়ার, শিক্ষার্থী, তাপসী রাবেয়া হল
নিশাত স্ট্রিমকে বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ নানা কারণে অ্যাকাডেমিক ব্যর্থতা এসেছে। বিশেষ বিবেচনায় অ্যাকাডেমিক বছর বৃদ্ধির আবেদন করেছি। সিট বাতিলের পরে ছোট ভাইয়ের কক্ষে থাকছি।’
অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। গত এপ্রিলে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে নারী থাকার সন্দেহে তল্লাশির ঘটনায় প্রশাসন ছাত্রশিবির সমর্থিত হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিব জুবায়ের ও শিক্ষার্থী ফোরকান হাফিজ জীমের সিটি বাতিল করে।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সিট বাতিলের পরও কয়েকজনকে আমি একাধিকবার হলে দেখেছি। তল্লাশির বিষয়ে তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।’
গত ১০ আগস্ট শহীদ শামসুজ্জোহা হলে প্রতিবন্ধী কোটায় বরাদ্দ পাওয়া ১৫৬ নম্বর কক্ষে উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দেক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, কক্ষটি তাঁর নামে বরাদ্দ। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই ইয়াসিন নামে ইসলামিক স্টাডিজের এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। বিষয়টি হল প্রশাসন ও হল সংসদের নেতাদের জানিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি মুসাদ্দেকের।
প্রাধ্যক্ষরা আবাসিক নীতিমালা মেনে হলের সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। কেউ অবৈধভাবে থাকলে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অধ্যাপক আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)
হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদের অভিযোগ, ইয়াসিন হল সংসদের নেতাদের প্রশ্রয়ে সিট দখল করে আছেন। তবে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত জোহা হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘ছেলেটি (ইয়াসিন) দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমার কাছে চার-পাঁচ দিন থাকার কথা বলেছিল। বিষয়টি প্রাধ্যক্ষকেও জানিয়েছি।’
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আল-আমীন সরকার বলেন, ‘একাধিকবার নোটিশ দিলেও ছেলেটি হল ছাড়েনি। তবে আহতের কথা জানালে, তাঁকে সাময়িকভাবে গণরুমে থাকার অনুমতি দিই।’
আবাসিক নীতিমালা অনুযায়ী, মেধাবী, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ১০ শতাংশ সংরক্ষিত। এই কোটার আসন নিয়ে ছাত্র সংগঠনের প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।
গত ১ মার্চ ছাত্রদল নেতা আমির হামজা এবং ৫ এপ্রিল আসিফ উদ্দিনকে আমীর আলী হলে পৃথক নোটিশের মাধ্যমে বিশেষ কোটায় সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুজনই রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান হলে গত ১৯ জুলাই প্রথম দফায় ৬৪ জনকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২ আগস্ট আরও ৩৭ শিক্ষার্থীকে নতুন করে সিট দেওয়া হয়। হল ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল্লাহ বিন রায়হান ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, প্রথম তালিকা প্রকাশের পর ৪০ থেকে ৫০টি সিট ফাঁকা থাকার অভিযোগ ওঠে। শিবিরের প্রতিবাদের পর প্রশাসন পুনরায় বরাদ্দ দিতে বাধ্য হয়।
শিবির সমর্থিত হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, নতুন বরাদ্দের পরও ১৫ থেকে ২০টি আসন ফাঁকা রয়েছে। তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ছাত্রশিবিরের দাবিকে ‘ধারণাপ্রসূত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘হলের সিট কখনো একসঙ্গে খালি হয় না। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
.png)
-2b0a72.jpeg)
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—কোন বিষয়ে পড়বেন? অনেক শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান। কেউ নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে ভাবেন, কেউ আবার বন্ধু বা পরিচিতদের দেখাদেখি বিষয় বেছে নেন। আবার কোনো কোনো বিষয়কে সমাজে বেশি মর্যাদার বলে মনে হওয়ায় সেটিকেই পছন্দের তালিকার
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় ‘নিলস-এলইবি ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) এই আয়োজনে দেশের ৫০-এর বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তখন মাসখানেক বাকি। চারদিকে ভোটের ব্যস্ততা। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময় শুরু হয় নিয়োগের তোড়জোড়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে আবেদন গ্রহণ, পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নিয়োগ— পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হয় মাত্র ২৫ দিনে। ভোটের দুই দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) সিন্ডিকেট বসিয়ে ১৯ শিক্ষকের নিয়োগ
২৯ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় নিলস-এলইবি ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০০-এর অধিক অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করছেন।
২৯ আগস্ট ২০২৬