leadT1ad

ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক: অভিযোগ গঠন না অব্যাহতি, শুনানি আজ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হক। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, বা তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না—তা নিয়ে আজ আইনি তর্কের শুনানি হবে।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজন ভ্যানে করে এই দুই হাইপ্রোফাইল আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই শুনানি চলছে। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি ফোনালাপকে কেন্দ্রীয় সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করে। ওই দিন ট্রাইব্যুনালে সালমান ও আনিসুলের একটি কথিত ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয়।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ৪ ডিসেম্বর দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ নির্দেশ বা প্ররোচনা ছিল। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা ও সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। প্রসিকিউশন এই উসকানিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে বিচার শুরুর প্রার্থনা জানিয়েছে।

অন্যদিকে আজ আসামিপক্ষ অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা এবং আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করবে। এর আগে ৪ জানুয়ারি আসামিপক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন, প্রসিকিউশনের শোনানো ফোনালাপটি সালমান এফ রহমান বা আনিসুল হকের কণ্ঠস্বর নয়।

ওই দিন তিনি বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ডটি পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি খারিজ করে দিলেও তা নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আসামিপক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে গত ১০ ডিসেম্বর করা একটি আবেদনও আদালতের নথিতে রয়েছে।

আজকের শুনানিতে আসামিপক্ষ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা এবং ফোনালাপের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরবে। এরপর তারা অব্যাহতির আবেদন পেশ করবে। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত