বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে ডুবল ময়মনসিংহ, দুর্ভোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৪৮
বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরে জলাবদ্ধতা। সংগৃহীত ছবি

চলতি বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে ময়মনসিংহ নগরীর বেশিরভাগ রাস্তা ডুবে গেছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৯ ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। টানা ভারী বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলে বৃষ্টির তীব্রতাও কমে আসবে।

ভারী বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় পানি জমে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাসার উঠান পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখেন। ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

মহিলা কলেজ এলাকার বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, কলেজের প্রবেশপথে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের জুতা খুলে পানি পার হয়ে ভেতরে যেতে হয়েছে।

ক্যাডেট কলেজ সড়কের অটোরিকশাচালক মো. রুবেল মিয়া বলেন, সড়কে পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত রয়েছে তা বোঝা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে এবং যাত্রীও কম পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং বিভিন্ন স্থানে ড্রেন দখল ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতি বর্ষাতেই একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানিনিষ্কাশনের কাজ তদারকি করতে বুধবার সকাল থেকেই নগরীর চরপাড়া, সানকিপাড়া, গোলকিবাড়ি, কলেজ রোড, কাচিঝুলি, গোলাপজান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন। কোথাও পানিনিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিক নিয়োগ করে তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরিদর্শনের সময় নির্মাণাধীন ভবনের বালু, ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ড্রেনে পড়ে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, ‘আজ আমার দায়িত্বের ১১০ দিন। মূল সড়কগুলোতে পানি জমেনি, তবে অতিমাত্রায় বৃষ্টির কারণে গলির সড়কগুলোতে পানি আটকে গেছে। আমরা সারা দিন মাঠে থেকে পানি নামানোর চেষ্টা করছি। কোথায় পানি আটকে যায় এবং কেন আটকে যায়, তা খুঁজে বের করছি। আগামী বর্ষায় যেন এমন পরিস্থিতি না হয়, সে পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করব।’

এ দিকে ভারী বৃষ্টির কারণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিজ নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা স্থগিত করেছেন। তবে এইচএসসি পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত