মানুষ-প্রকৃতি অবিচ্ছিন্ন সত্তা, ইসলামের শিক্ষা: ফরহাদ মজহার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন ফরহাদ মজহার। স্ট্রিম ছবি

মানুষ ও প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নয়—এটা ইসলামের শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও ভাবুক ফরহাদ মজহার। শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ‘ভাববৈঠকি’র সেমিনারে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

‘সাম্রাজ্যবাদী-জায়নবাদী আগ্রাসন এবং ইরানি প্রতিরোধের রণকৌশল’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে পাশ্চাত্য আধুনিকতার সমালোচনা করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘পাশ্চাত্যে রুহ এবং শরীর আলাদা হয়ে গেছে। দেকার্তের সময় থেকেই পশ্চিমারা জগৎকে কেবল লুণ্ঠনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে আসছে। কিন্তু আমাদের (বাংলাদেশি) লড়াই হওয়া উচিত এই বদ্বীপের নদী ও প্রকৃতিকে রক্ষার। খলিফা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর সৃষ্টিকে রক্ষা করা, লুণ্ঠন করা নয়।’

জাতীয়তাবাদ ও জায়নবাদকে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘জায়নবাদ কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খল। এটি মানুষকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করে আধিপত্য বজায় রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারা যখন “ধ্বংস করেছি” ভাষা ব্যবহার করেন, তখন তা পুরো সৃষ্টিব্যবস্থাকেই হুমকির মুখে ফেলে দেয়।’

ফরহাদ মজহার ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবকে কেবল ধর্মীয় বিপ্লব নয়, বরং পশ্চিমা জ্ঞানতাত্ত্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে দার্শনিক বিদ্রোহ হিসেবে অভিহিত করেন।

সেমিনারের সূচনা বক্তব্যে কবি ও ‘ভাববৈঠকি’র প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ রোমেল আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। প্রথম পর্বে ‘মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী-জায়নবাদী শক্তির শিকারি উপস্থিতি’ বিষয়ে আলোচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

এ ছাড়া সেমিনারে ‘ইরানে ইসলামি বিপ্লবের তাত্ত্বিক ভিত্তি’ বিষয়ে মুহাম্মদ তানিম নওশাদ এবং ‘ইরানি ইনকিলাব: ১৯৭৯-এর রাজনৈতিক পাঠ’ বিষয়ে শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া ‘রাজনৈতিক ইসলামের বাস্তব রূপায়ণ’ এবং লেখক সোহেল নাদিম রহমান ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার বিপরীতে সার্বভৌম অর্থনৈতিক কাঠামোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

সম্পর্কিত