ঝিনাইদহে পাটওয়ারীর ওপর হামলা, অভিযোগ ছাত্রদল-যুবদলের বিরুদ্ধে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সংগৃহীত ছবি।

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন পৌর কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই হামলা হয়।

এনসিপির ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী হামিদ পারভেজ জানিয়েছেন, হামলার পর তারা ঝিনাইদহ থানায় আছেন। এ বিষয়ে পরে জানাবেন। ঘটনার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের লোকজন হামলা চালিয়েছে। তারা ডিম নিক্ষেপ করেছে। আমাদের তিন-চারজন আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চাই। আমি আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। আইনমন্ত্রীর এলাকাতেই যদি আইনশৃঙ্খলার এই অবস্থা হয়, তাহলে তাঁর মন্ত্রী থাকার দরকার নেই।’

পরে ঘটনার বিষয়ে বেলা ৩টা ১০ মিনিটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা শুরু করে। প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য তারেক রেজাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।’

হামলাকারীরা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে অভিযোগ করে ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা বর্তমানে থানায় অবস্থান করছি এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আসেন। কথা বলার একপর্যায়ে সাহেদের পেছন থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি হয়।

এ সময় কয়েকজন এনসিপির নেতাকর্মীর ওপর হামলা করে। তাদের হাতে লোহার রড, লাঠিসোটা ও হকিস্টিক ছিল। এ ঘটনায় আতঙ্কে মুসল্লিরা দিগ্বিদিক দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন। হামলায় পুলিশসহ এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এনসিপির নেতারা বিক্ষোভ করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী থানায় এসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ করেননি।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। ছবি: সংগৃহীত
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। ছবি: সংগৃহীত

হামলার অভিযোগ নাকচ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ জানান, তাঁর নেতৃত্বে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। মসজিদে জুমা পড়তে এসে তিনি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আসার কথা জানতে পারেন। নামাজ শেষে কথা বলতে যান এবং কথা বলার একপর্যায়ে জেলার বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হামলা করে বলে জানান সাহেদ।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে রাজনীতির কলঙ্ক আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘দেশের মানুষ আর এই কলঙ্ককে দেখতে চায় না। এজন্য ঝিনাইদহের বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রতিহত করেছে। জেলা থেকে তাঁকে বিড়াড়িত করেছে। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি; তার মানে এই নয়, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। জেলার বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হামলা করেছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাহেদ বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি এবং দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতা মির্জা আব্বাস, আসাদুল হাবিব দুলুসহ সবাইকে চাঁদাবাজ, মাফিয়া বলে কটূক্তি করছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ভাঙারও হুমকিধমকি দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, আমি নাসীরুদ্দীনকে বললাম– আপনি ঝিনাইদহে এসেছেন, খুবই ভালো। কিন্তু ঝিনাইদহের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নামে কোনো কটূক্তি করবেন না। কারণ প্রত্যেকেরই মানসম্মান রয়েছে। কারও সম্মান নিয়ে টানাটানি করবেন না। এই অনুরোধ করার পর তিনি আমার পরিচয় জানতে চান। আমি আমার পরিচয় দিই। পরে ঝিনাইদহের বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উনার ওপর ডিম নিক্ষেপ করে। এ সময় এনসিপির নেতাকর্মীরা পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন।

প্রশ্ন রেখে সাহেদ আরও বলেন, পুলিশ এখনো কেন এসব অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করছে না? এদের গ্রেপ্তার করতে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে থানা লুটের ভারী আগ্নেয়াস্ত্র কারা ব্যবহার করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

সম্পর্কিত