ত্বকী হত্যায় বিচারহীনতার চক্র এখনো ভাঙেনি: আনু মুহাম্মদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ২৩: ০৩
‘সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ’ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত

সংসদ থেকে খুনিদের পক্ষ নেওয়ার কারণেই ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ হয়েছিল। বিচারহীনতার সেই চক্র এখনো ভাঙেনি বলে অভিযোগ অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদের। শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুনিদের পক্ষ নেওয়ায় এই বিচার আর এগোয়নি। কিন্তু এখন তো তিনি ক্ষমতায় নেই, তাহলে কেন এখনো বিচার হচ্ছে না?’

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, জরুরি বিচারিক কাজ বাদ দিয়ে তারা ক্ষতিকর চুক্তি স্বাক্ষরে ব্যস্ত ছিল।

শেখ হাসিনার চলে গেলেও ক্ষমতার পুরনো অশুভ চক্র বহাল রয়েছে দাবি করে সাগর-রুনি, মুনিয়া ও তনু হত্যাকাণ্ডের বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আদালতের শুনানির দিন পেছানোর ধরন এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে।’

সমাবেশে নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ন্যায়দণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও দেশে দেবী জাস্টিশিয়ার মৃত্যু আগেই হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকী খোদ র‍্যাবকে ত্বকীর তদন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে রাফিউর রাব্বি বলেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালীন খালেদা জিয়া ত্বকীর বিচার চেয়েছিলেন, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারা চুপ। তিনি অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের পর টাকার বিনিময়ে শামীম ওসমান পরিবারকে দেশ থেকে পালাতে দেওয়া হয়। এরপরেও আরও ৩-৪ মাস দেশে থাকলেও আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, শামীম ওসমান পরিবারের জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই সময়ে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে খুনিদের চিহ্নিত করলেও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের বিচার করেনি।

তিনি আরও জানান, সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দুই মাসের মধ্যে বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে দুই বছর পার হলেও কোনো ফল মেলেনি।

জামশেদ আনোয়ার ক্ষমতাসীনদের সতর্ক করে বলেন, ‘এখন তারেক জিয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান শুনতে হচ্ছে। এই গণক্ষোভের ধ্বনি ঠেকাতে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার করুন।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, আইনজীবী সারা হোসেন, বাকি বিল্লাহসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংহতি জানান। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বিবর্তন, বটতলা ও প্রাচ্যনাট প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নিখোঁজ হওয়ার পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে ওসমান পরিবারের টর্চার সেলে ত্বকীকে হত্যার সত্যতা নিশ্চিত করলেও সেই অভিযোগপত্র আজও আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।

সম্পর্কিত