বৈশাখী শোভাযাত্রায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ৩৯
বৈশাখী শোভাযাত্রায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নেমেছে। নতুন বছরকে বরণের উৎসবে মেতেছে সবাই।

আগে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজিত হলেও এবার আয়োজন করা হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে। ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন।

শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ- মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। মোটিফগুলোতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে গ্রাম বাংলার লোক-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে। এ ছাড়াও ছিল নানা ধরনের মুখোশ। তার মধ্যে বাঘ, হাতি, ময়ূর অন্যতম।

বৈশাখী শোভাযাত্রায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত
বৈশাখী শোভাযাত্রায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় শুরু হলেও প্রস্তুতি শুরু হয় ৮টায়। এর আগেই রাজধানীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে জড়ো হতে থাকে। তবে আয়োজনের খাপছাড়া ভাব নিয়ে অভিযোগ করেন অনেকে।

ঢাকার আহসানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার অতী স্ট্রিমকে বলেন, ‘নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এখানে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। তবে মনে হচ্ছে আগের তুলনায় মানুষ একটু কম। আয়োজনের প্রস্তুতি অনেক কম সময়ে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ অনেক কিছু একটু খাপছাড়া লেগেছে।’

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন হেমায়েত উল্লাহ। শোভাযাত্রায় অংশ নিতে এসেছেন তিনি। হেমায়েত উল্লাহ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি প্রথমবার এসেছিলাম ২০২০ সালে। তখন মেট্রোরেল ছিল না। সে সময় শোভাযাত্রা অন্যরকম ছিল। এবার সেই আমেজটা পাইনি।’

বৈশাখী শোভাযাত্রায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত
বৈশাখী শোভাযাত্রায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের যে আগ্রহ সেটা এবারও দেখতে পাচ্ছি। সবাই নিজের তাগিদ থেকে এখানে এসেছে। এটা খুব ভালো লাগছে। নতুন বছরটা সবার জন্য সুন্দর কাটুক। আজ মনে হচ্ছে দেশের মানুষ অশুভ শক্তির সাথে যেকোনো সময় লড়াই করার জন্য প্রস্তুত।

বৈশাখী শোভাযাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছিল পুলিশের নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। এবারের আয়োজনে নিরাপত্তাজনিত কারণে মুখে মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস ছিল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।

সম্পর্কিত