leadT1ad

বিমান দুর্ঘটনা: মাইলস্টোনের ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধে আবেদন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৪৯
মাইলস্টোন কলেজ। ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ চেয়ে আবেদন করেছেন ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহত হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। সম্প্রতি আটজন নিহত শিক্ষার্থী এবং একজন আহত শিক্ষার্থীর মা–বাবা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তাদের দাবি-দাওয়া জানিয়ে আবেদন দিয়েছেন।

আবেদনের চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অধ্যক্ষকে পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন, নিহত রাইসা মনির বাবা সাহাবুল শেখ, আহত কাফি আহমেদের বাবা মেরাজ আহমেদ, নিহত নুসরাত জাহান আনিকার বাবা মো. আবুল হোসেন, নিহত মারিয়াম উম্মে আফিয়ার বাবা আব্দুল কাদির, নিহত মাহিত হাসান আরিয়ানের মা মনিকা আক্তার, নিহত ওয়াকিয়া ফেরদৌস নিধির বাবা মো. ফারুক হোসেন, নিহত বোরহানউদ্দিন বাপ্পির বাবা মোহাম্মদ আবু শাহীন, নিহত ফাতেমা আক্তারের মা রূপা খানম ও নিহত জোনায়েদ হাসানের বাবা মো. আসলাম।

চিঠিতে বলা হয়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত, কারণ, দায়–দায়িত্ব, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ঘটনা-সংশ্লিষ্ট অপরাপর বিষয় চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খানকে সভাপতি করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এরই মধ্যে তদন্ত কমিশন তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে এবং কয়েকজন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে কতিপয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছে। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অদ্যাবধি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি; এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারবর্গকেও এর কোনো কপি দেওয়া হয়নি।

আবেদনে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো, অবিলম্বে তদন্ত কমিশনের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন সবার জন্য গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রদান করতে হবে; বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদন প্রক্রিয়া ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী কী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বা হচ্ছে, তা সবাইকে জানাতে হবে; ঝুঁকিপূর্ণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জরুরি ভিত্তিতে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; ঝুঁকিপূর্ণ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জরুরি ভিত্তিতে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত উত্তরা–দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা সবাইকে জানাতে হবে এবং দগ্ধ ও আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং নিহতদের পরিবারসহ সব ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করতে গৃহীত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ আমাদের অবগত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও নিহত হন। এ ছাড়া অনেকে আহত হন। আলোচিত এই ঘটনা নিয়ে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই কমিশনের প্রতিবেদনে কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত