মিল্টন সমাদ্দার এবার কনটেন্ট ক্রিয়েটর পিটিয়ে আলোচনায়

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০: ০১
চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দার। ছবি: সংগৃহীত
চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দার। ছবি: সংগৃহীত

চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে নাহিদ হাসান নামে ‘উজান টিভির’ কনটেন্ট ক্রিয়েটর শনিবার (২৯ আগস্ট) তাঁর বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন।

ওসি সাইফুল আলম জানান, নাহিদ হাসানের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী নাহিদ হাসান জানান, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত তিনি। গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন– সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর এলাকায় মিল্টন সমাদ্দারের চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে পরিচয়হীন শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের আশ্রয় এবং অসুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, গত ২৩ আগস্ট দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলার বকুলতলায় সড়কে ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ ও পরিচয়হীন ব্যক্তিকে পেয়ে স্বজনের সন্ধান করেন। পরে তাঁকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃদ্ধাকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দেওয়ার অনুরোধ করেন।

নাহিদের অভিযোগ, প্রথমে মিল্টন সমাদ্দার বৃদ্ধাকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে নিতে চাননি। অনুরোধের একপর্যায়ে আশ্রয় ও সেবা দেওয়ার বিনিময়ে মাসে ১৮ হাজার টাকা দাবি করেন। মিল্টনের কথামতো ২৫ আগস্ট শরণখোলা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে রাত আড়াইটার দিকে ওই বৃদ্ধাকে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে আনেন। সেখানে তাদের ওপর হামলা চালান মিল্টন সমাদ্দার, তাঁর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দেবাশীষ ও অজ্ঞাতপরিচয়ের পাঁচ থেকে সাতজন। একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে এলে ইলিয়াস হোসেনকে মারধর করা হয়। পরে ভয় দেখিয়ে নাহিদের কাছ থেকে ভিডিও বক্তব্য নেন।

নাহিদ জানান, বৃদ্ধাকে প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার বিষয়ে টাকা দাবি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করেন মিল্টন সমাদ্দার। আগের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ায় নিজের দায় এড়াতে তিনি ওই বৃদ্ধাকে প্রতিষ্ঠানে রেখে দেন। নাহিদ ও ইলিয়াসকে মারধর করে হুমকিধমকি দিয়ে থেকে বের করে দেন মিল্টন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন নাহিদ ও ইলিয়াস।

নাহিদ হাসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘মিল্টন সমাদ্দার যেভাবে আমাদের ওপর অতর্কিত ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছেন, আমরা এর সঠিক তদন্ত বিচার চাই।’

অভিযোগের ব্যাপারে মিল্টন সমাদ্দারকে একাধিকবার কল দিলেও, রিসিভ হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিলেও, সাড়া দেননি তিনি।

মিল্টন সমাদ্দারের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। ২০০৯ সালে রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান হাসপাতাল থেকে নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন বলে সামাজিক মাধ্যমে নিজের পরিচয়ে দিয়েছেন তিনি। ভেরিফায়েড ফেসবুকে মিল্টন নিজের পরিচয় সম্পর্কে তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এগুলো হলো– চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার, চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার ফাউন্ডেশন ও মিল্টন হোম কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড। এর মধ্যে প্রথম দুটিকে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিল্টন হোম কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১ মে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়। এসব মামলায় মানবিক কাজের আড়ালে ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতি, মানবপাচার, হত্যার উদ্দেশ্যে মানুষকে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত