লেখা:

ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রিকেটের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্পর্ক বহু আগের। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি আজ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার একটি অধ্যায় জড়িয়ে আছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এই জেলার ক্রিকেটমাঠের সঙ্গে। সেই সময়ের কিছু স্মৃতি আমার পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গেও মিশে আছে।
সময়টা ১৯৮৪ সাল। উত্তরের সীমান্তঘেঁষা ঠাকুরগাঁও তখন সবেমাত্র নতুন জেলার স্বীকৃতি পেয়েছে। অবকাঠামোর দৈন্যদশা ছিল। কিন্তু স্বপ্ন দেখায় কার্পণ্য ছিল না। সেই সময় একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিকেটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মো. বারেকাল্লা, অ্যাডভোকেট তহিদুল ইসলাম, নুরুল হক, আব্দুল গোফরান, নবগোপাল সামন্ত, আনিসুর রহমান, মির্জা বাবলু, মহিউদ্দিন, ওয়াসেল পাশা ও লুৎফর রহমানের মতো স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা।
সেই দলে ছিলেন আমার বাবা মো. বারেকাল্লা। তিনি ছিলেন ক্রিকেটপাগল মানুষ। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর টান কতটা গভীর ছিল তার একটি ঘটনা আজও আমাদের পারিবারিক স্মৃতির অংশ। ১৯৭৯ সালে কোনো ধরনের পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তে মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে ঝুঁকি নিয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারত-পাকিস্তান টেস্টের দ্বৈরথ দেখতে। সেই সময় ক্রিকেটের প্রতি আবেগই তাঁকে এমন ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করেছিল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মো. বারেকাল্লার যৌথ উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্মিত হয়েছিল প্রথম আধুনিক ক্রিকেট পিচ। মাঠে খেলা থাকলে খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী বন্ধুদের জন্য স্থানীয় বিখ্যাত ‘গৌসিয়া হোটেল’-এ খাবারের আয়োজনও ছিল। ক্রিকেটকে ঘিরে সেই সময় গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব আর এক সামাজিক পরিসর।
এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়। উইলস কাপ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের ভেন্যু হয় ঠাকুরগাঁও। প্রথমবারের মতো মফস্বলের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রে জায়গা করে নেয় এই জেলা। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় জেলা ক্রিকেট লিগ।
আমার বাবার একটি ছোট্ট অনুরোধে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা থেকে এনে দিয়েছিলেন ‘ইহসান’ ব্র্যান্ডের একটি চকচকে ব্যাট। লাল বলের ক্রিকেটে সেটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম ব্যাট। আজও সেই ব্যাটের কথা মনে হলে আমার কাছে ফিরে আসে ঠাকুরগাঁওয়ের সেই সময়ের ক্রিকেট-পরিবেশ এবং মানুষগুলোর কথা। সেই মানুষগুলো খেলাটিকে কেন্দ্র করে নিজেদের সময় ও শ্রম ব্যয় করেছিলেন অকাতরে।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সেই সময়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন অবহেলিত জনপদে ক্রিকেটের প্রসারে কাজ হয়। তাঁর উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠে খেলতে আসে ঢাকার শীর্ষ ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত শ্রীলঙ্কান কয়েকজন ক্রিকেটারের উপস্থিতিও সে সময়ের স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের ছিল। মফস্বলের ধুলোমাখা গ্যালারিতে বসে উত্তরের মানুষ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় বিশ্বমানের ক্রিকেট
।
তৃণমূলের ক্রিকেট উন্নয়নের এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে ২০০২ সালে তিনি তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিনের স্মরণে ‘মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ চালু করেন। সীমান্তঘেঁষা এই জেলার যুবসমাজের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করে এই আয়োজন। ঠাকুরগাঁওয়ে খেলাধুলার অবকাঠামো গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও মির্জা রুহুল আমিনের অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। আজকের আধুনিক জেলা স্টেডিয়াম গড়ে ওঠার পেছনেও তাঁর সহায়তা ছিল।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিচয়ের পরিসর অনেক বিস্তৃত। তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মূল্যায়নও হবে বৃহত্তর রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে।
আমার কাছে সেই অধ্যায়ের সবচেয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতি একটি ক্রিকেট ব্যাট। বহু বছর পরও ‘ইহসান’ ব্র্যান্ডের সেই ব্যাটটির কথা মনে পড়লে ফিরে আসে ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠ, ক্রিকেটপাগল কিছু মানুষ এবং একটি মফস্বল শহরের বড় স্বপ্ন দেখার দিনগুলো। বাইশ গজ থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত পথটি দীর্ঘ। কিন্তু আমার স্মৃতিতে সেই পথের শুরু জড়িয়ে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ক্রিকেট পিচের সঙ্গে।
লেখক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পারফরম্যান্স এনালিস্ট

ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রিকেটের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্পর্ক বহু আগের। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি আজ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বে। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার একটি অধ্যায় জড়িয়ে আছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এই জেলার ক্রিকেটমাঠের সঙ্গে। সেই সময়ের কিছু স্মৃতি আমার পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গেও মিশে আছে।
সময়টা ১৯৮৪ সাল। উত্তরের সীমান্তঘেঁষা ঠাকুরগাঁও তখন সবেমাত্র নতুন জেলার স্বীকৃতি পেয়েছে। অবকাঠামোর দৈন্যদশা ছিল। কিন্তু স্বপ্ন দেখায় কার্পণ্য ছিল না। সেই সময় একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিকেটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মো. বারেকাল্লা, অ্যাডভোকেট তহিদুল ইসলাম, নুরুল হক, আব্দুল গোফরান, নবগোপাল সামন্ত, আনিসুর রহমান, মির্জা বাবলু, মহিউদ্দিন, ওয়াসেল পাশা ও লুৎফর রহমানের মতো স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা।
সেই দলে ছিলেন আমার বাবা মো. বারেকাল্লা। তিনি ছিলেন ক্রিকেটপাগল মানুষ। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর টান কতটা গভীর ছিল তার একটি ঘটনা আজও আমাদের পারিবারিক স্মৃতির অংশ। ১৯৭৯ সালে কোনো ধরনের পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তে মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে ঝুঁকি নিয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারত-পাকিস্তান টেস্টের দ্বৈরথ দেখতে। সেই সময় ক্রিকেটের প্রতি আবেগই তাঁকে এমন ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করেছিল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মো. বারেকাল্লার যৌথ উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্মিত হয়েছিল প্রথম আধুনিক ক্রিকেট পিচ। মাঠে খেলা থাকলে খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী বন্ধুদের জন্য স্থানীয় বিখ্যাত ‘গৌসিয়া হোটেল’-এ খাবারের আয়োজনও ছিল। ক্রিকেটকে ঘিরে সেই সময় গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব আর এক সামাজিক পরিসর।
এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়। উইলস কাপ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের ভেন্যু হয় ঠাকুরগাঁও। প্রথমবারের মতো মফস্বলের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রে জায়গা করে নেয় এই জেলা। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় জেলা ক্রিকেট লিগ।
আমার বাবার একটি ছোট্ট অনুরোধে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা থেকে এনে দিয়েছিলেন ‘ইহসান’ ব্র্যান্ডের একটি চকচকে ব্যাট। লাল বলের ক্রিকেটে সেটিই ছিল আমার জীবনের প্রথম ব্যাট। আজও সেই ব্যাটের কথা মনে হলে আমার কাছে ফিরে আসে ঠাকুরগাঁওয়ের সেই সময়ের ক্রিকেট-পরিবেশ এবং মানুষগুলোর কথা। সেই মানুষগুলো খেলাটিকে কেন্দ্র করে নিজেদের সময় ও শ্রম ব্যয় করেছিলেন অকাতরে।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সেই সময়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন অবহেলিত জনপদে ক্রিকেটের প্রসারে কাজ হয়। তাঁর উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠে খেলতে আসে ঢাকার শীর্ষ ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত শ্রীলঙ্কান কয়েকজন ক্রিকেটারের উপস্থিতিও সে সময়ের স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের ছিল। মফস্বলের ধুলোমাখা গ্যালারিতে বসে উত্তরের মানুষ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় বিশ্বমানের ক্রিকেট
।
তৃণমূলের ক্রিকেট উন্নয়নের এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে ২০০২ সালে তিনি তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিনের স্মরণে ‘মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ চালু করেন। সীমান্তঘেঁষা এই জেলার যুবসমাজের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করে এই আয়োজন। ঠাকুরগাঁওয়ে খেলাধুলার অবকাঠামো গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও মির্জা রুহুল আমিনের অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। আজকের আধুনিক জেলা স্টেডিয়াম গড়ে ওঠার পেছনেও তাঁর সহায়তা ছিল।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিচয়ের পরিসর অনেক বিস্তৃত। তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মূল্যায়নও হবে বৃহত্তর রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে।
আমার কাছে সেই অধ্যায়ের সবচেয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতি একটি ক্রিকেট ব্যাট। বহু বছর পরও ‘ইহসান’ ব্র্যান্ডের সেই ব্যাটটির কথা মনে পড়লে ফিরে আসে ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠ, ক্রিকেটপাগল কিছু মানুষ এবং একটি মফস্বল শহরের বড় স্বপ্ন দেখার দিনগুলো। বাইশ গজ থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত পথটি দীর্ঘ। কিন্তু আমার স্মৃতিতে সেই পথের শুরু জড়িয়ে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ক্রিকেট পিচের সঙ্গে।
লেখক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পারফরম্যান্স এনালিস্ট
.png)

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুক্তবাজার অর্থনীতি মানে শুধু উন্নয়ন নয়; একইসঙ্গে অসমতার দ্রুত বিস্তার। শহরের গ্লাস টাওয়ার আর গ্রামের অনিশ্চিত শ্রম—এই দুই বাস্তবতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু কখনো একই ফ্রেমে সমানভাবে ধরা পড়ে না। উন্নয়ন হয় ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন হলো—কার জন্য?
২১ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে আজ। আইন প্রণয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এই অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা। নতুন সংসদের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে এসব কমিটি কতটা স্বাধীন, সক্রিয় ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম তার ওপর।
২৭ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীর ৬০ ভাগেরও বেশি কৃষি জমি কীটনাশক দূষণের ঝুঁকিতে এবং ৩০ ভাগেরও বেশি জমি উচ্চ ঝুঁকিতে। এইসব কীটনাশক ব্যবহারের নীতিমালা থাকলেও অধিকাংশ কৃষক তা জানে না এবং মানে না।
২৭ আগস্ট ২০২৬
বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে দীর্ঘ বিবরণ লিখেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী শাসনামলে সরকারি দলের এবং ফ্যাসিবাদের প্রচার যন্ত্র হিসেবে বিটিভিকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিটিভি অতীতেও ক্রেডিবিলিট
২৭ আগস্ট ২০২৬