স্ট্রিম সংবাদদাতা

‘হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙল, বাইরে এসে দেখি পুরো বাড়ি কাদায় ঢেকে গেছে’—উদ্ধারকারীদের একজন এমনভাবেই ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে বলছিলেন। পাহাড় ধসে কাদার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু ও নারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এবং কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে রাত দেড়টার দিকে জামতলী আশ্রয়শিবিরের ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে। পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে কামাল হোসেনের জীর্ণ ঘরের ওপর। উদ্ধারকারীরা যখন কাদা সরিয়ে ভেতরে পৌঁছান, তখন আর কাউকে বাঁচানো যায়নি। সেখানেই মারা যান কামাল হোসেন (৪৪), তার স্ত্রী হুমাইরা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছরের সন্তান মোহাম্মদ আনাস। মা-বাবার কোলেই প্রাণ হারিয়েছে অবুঝ শিশুটি। পরিবারের আরও দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক রহিম উল্লাহ সেই রাতের বিভীষিকার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে প্রথমে আমরা বিকট শব্দ শুনি। তারপর চারপাশ থেকে মানুষ চিৎকার করতে থাকে। হাত দিয়ে কাদা সরিয়েছি, কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছি। কিন্তু অনেকের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়।’
একই রাতে কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মারা গেছে সাত বছরের শিশু একরাম। এর কয়েক ঘণ্টা পর বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পে আরেকটি ধসে এক পরিবারেই নিভে গেছে চার ভাইবোনের প্রাণ। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), ছোট ভাই রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। একসঙ্গে চার সন্তানকে হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ স্বজনেরা।
বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় আমরা ভয়ে থাকি। বৃষ্টি শুরু হলেই ঘুম আসে না। কিন্তু যাব কোথায়? নিরাপদ জায়গা নেই, থাকার মতো আর কোনো ঘরও নেই।’
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, গভীর রাতেই খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টি, পিচ্ছিল কাদা ও অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অনেক পরিবার এখনো পাহাড়ের ঢালেই বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছে।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকাতেও শেষ রাতে পাহাড়ধসে আলী আকবর নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী সাঈদ আনোয়ার আতঙ্কের সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি পুরো বাড়ি কাদায় ঢেকে গেছে। আমরা সবাই মিলে হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে মানুষ বের করার চেষ্টা করেছি। এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি।’
কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প মিলিয়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ এখন খাড়া পাহাড়ের ঢালে চরম মৃত্যুর ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ মিলিমিটারের বেশি রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা এবং বাধ্য হয়ে অনিরাপদ ঢালে আশ্রয় নেওয়ার কারণেই প্রতি বর্ষায় এমন ট্র্যাজেডি ফিরে আসে। নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও পাহাড়ের পাদদেশেই কাটছে এসব অসহায় মানুষের রাত।

‘হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙল, বাইরে এসে দেখি পুরো বাড়ি কাদায় ঢেকে গেছে’—উদ্ধারকারীদের একজন এমনভাবেই ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে বলছিলেন। পাহাড় ধসে কাদার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু ও নারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এবং কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে রাত দেড়টার দিকে জামতলী আশ্রয়শিবিরের ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে। পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে কামাল হোসেনের জীর্ণ ঘরের ওপর। উদ্ধারকারীরা যখন কাদা সরিয়ে ভেতরে পৌঁছান, তখন আর কাউকে বাঁচানো যায়নি। সেখানেই মারা যান কামাল হোসেন (৪৪), তার স্ত্রী হুমাইরা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছরের সন্তান মোহাম্মদ আনাস। মা-বাবার কোলেই প্রাণ হারিয়েছে অবুঝ শিশুটি। পরিবারের আরও দুজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক রহিম উল্লাহ সেই রাতের বিভীষিকার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে প্রথমে আমরা বিকট শব্দ শুনি। তারপর চারপাশ থেকে মানুষ চিৎকার করতে থাকে। হাত দিয়ে কাদা সরিয়েছি, কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছি। কিন্তু অনেকের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যায়।’
একই রাতে কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মারা গেছে সাত বছরের শিশু একরাম। এর কয়েক ঘণ্টা পর বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পে আরেকটি ধসে এক পরিবারেই নিভে গেছে চার ভাইবোনের প্রাণ। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), ছোট ভাই রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। একসঙ্গে চার সন্তানকে হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ স্বজনেরা।
বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষায় আমরা ভয়ে থাকি। বৃষ্টি শুরু হলেই ঘুম আসে না। কিন্তু যাব কোথায়? নিরাপদ জায়গা নেই, থাকার মতো আর কোনো ঘরও নেই।’
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, গভীর রাতেই খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টি, পিচ্ছিল কাদা ও অন্ধকারের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অনেক পরিবার এখনো পাহাড়ের ঢালেই বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছে।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকাতেও শেষ রাতে পাহাড়ধসে আলী আকবর নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী সাঈদ আনোয়ার আতঙ্কের সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি পুরো বাড়ি কাদায় ঢেকে গেছে। আমরা সবাই মিলে হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে মানুষ বের করার চেষ্টা করেছি। এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি।’
কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প মিলিয়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ এখন খাড়া পাহাড়ের ঢালে চরম মৃত্যুর ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ মিলিমিটারের বেশি রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি আরও অন্তত দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা এবং বাধ্য হয়ে অনিরাপদ ঢালে আশ্রয় নেওয়ার কারণেই প্রতি বর্ষায় এমন ট্র্যাজেডি ফিরে আসে। নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকি জেনেও পাহাড়ের পাদদেশেই কাটছে এসব অসহায় মানুষের রাত।
.png)

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও উন্মুক্ত, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
৩ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইয়ের অভিযোগে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে সিজান নামের এক তরুণকে হত্যার মামলায় ইমাম ও আলেমদের আসামি করার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। এ ছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার।
৩ ঘণ্টা আগে
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ধসে মৃত্যু বেড়েছে। রোবারবার রাতে পাহাড়ধসে কক্সবাজারের পৃথক তিন দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কায় খোলা হয়েছে শতাধিক আশ্রয়কেন্দ
৪ ঘণ্টা আগে