ad

প্যারাগুয়ের দেয়াল ভেঙে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৪৫
গোলের পর এমবাপ্পেকে ঘিরে ফ্রান্সের ফুটবলারদের উল্লাস। ছবি : রয়টার্স

ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে রোববার (৫ জুলাই) ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরুর সময় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন দাবদাহের মধ্যে ম্যাচেও ছিল তীব্র উত্তেজনা। তবে সেই উত্তাপের ছাপ বেশি দেখা গেছে খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায়।

কঠিন ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি আর তর্কবিতর্কে গরম ছিল পুরো ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাঁচ ডিফেন্ডারের লো-ব্লক রক্ষণে ফ্রান্সকে আটকে রাখার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখলে রেখেও প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেননি এমবাপ্পে-ডেম্বেলেরা। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি মাত্র তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে বিরতির আগে কোনো দলই অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি।

প্রথমার্ধে গোল না হলেও মাঠে উত্তেজনা ছড়ায় ৩৫ মিনিটে। আন্দ্রেস কুবাসের বিপজ্জনক ট্যাকলে মাটিতে পড়ে যান এমবাপ্পে। এরপর শুরু হয় বাদানুবাদ, যা গড়ায় দুদলের খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কিতে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেন রেফারি।

বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। ৫২ মিনিটে এমবাপ্পের একক প্রচেষ্টা শেষ মুহূর্তে ঠেকিয়ে দেন ডিফেন্ডার হুয়ান কাসেরেস। এরপর ডেম্বেলের শট সাইড নেটে লাগে। কোনের দূরপাল্লার শট আঙুলের ছোঁয়ায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণ সামলে ৬৫ মিনিট পর্যন্ত সমতা ধরে রাখে প্যারাগুয়ে।

এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বদলি দেজিরে দুয়ে। বল পায়ে বক্সে ঢুকে পড়া দুয়েকে ফাউল করেন ডিয়েগো গোমেজ। রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।

৭০ মিনিটে স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি এমবাপ্পে। নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি অধিনায়ক। এটি এবারের বিশ্বকাপে তাঁর ৭ম এবং বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৯তম গোল। এই গোলে চলতি আসরে গোলসংখ্যায় লিওনেল মেসির সঙ্গে আবারও সমতায় ফিরেছেন এমবাপ্পে।

গোল হজমের পর রক্ষণ ছেড়ে কিছুটা সামনে উঠে খেলার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। তবে ফরাসি রক্ষণকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। উল্টো যোগ করা সময়ে দুয়ের পাস থেকে এমবাপ্পের পরপর ২টি শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অরল্যান্ডো গিল।

শেষ বাঁশির পরও উত্তেজনা থামেনি। দুই দলের খেলোয়াড়দের আলাদা করতে হয় ম্যাচ কর্মকর্তাদের। ম্যাচ চলাকালেও পরিস্থিতি শান্ত করতে একাধিকবার দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমকে।

ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের শারীরিক ফুটবল নিয়ে কথাও বলেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক এমবাপ্পে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম কী ধরনের ম্যাচ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, আমরা সেটি খুব ভালোভাবেই সামলেছি।’ প্যারাগুয়ের খেলার ধরন নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘ওরা হয়তো ভেবেছিল আমরা শুধু সুন্দর ফুটবল খেলব। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরাও কুৎসিত ফুটবলও খেলতে জানি।’

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক কানাডাকে হারিয়ে দেওয়া মরক্কো।

Ad 300x250

সম্পর্কিত