জন্মদিন
মেক্সিকোর কিংবদন্তি শিল্পী ফ্রিদা কাহলোর জন্মদিন আজ। ১৯০৭ সালের আজকের দিনে মেক্সিকো সিটির ঠিক বাইরে সুন্দর এক ‘নীল বাড়ি’তে জন্মেছিলেন তিনি। বেঁচে ছিলেন মাত্র ৪৭ বছর। ফ্রিদা কাহলো বারবার এঁকেছেন নিজেকেই। তিনি ছবি এঁকেছেন যতগুলো, তাঁর মধ্যে পঞ্চান্নটিই ছিল আত্মপ্রতিকৃতি।
ফাবিহা বিনতে হক

রবিঠাকুর লিখেছিলেন, ‘মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে, বাজিল বুকে সুখের মত ব্যথা।’ মেক্সিকান কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো যেন সেই ব্যথাকেই সুখের মতো বরণ করেছেন। চিত্রকলার ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী শিল্পী হলেন ফ্রিদা কাহলো। নিজের জীবন, সম্পর্ক-বিচ্ছেদ কিংবা ব্যথা-বেদনাকে তিনি ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন পরম মমতায়।
ফ্রিদা কাহলোর ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয়তায় ভরা। তাঁর আত্মপ্রতিকৃতিনির্ভর চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে নারীর চিরায়ত ব্যথা, আবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার সম্পর্ক খুঁজে পান অনেকে। যদিও ফ্রিদা এঁকেছেন মূলত নিজেকেই। জীবনব্যাপী অবর্ণনীয় শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। আর সেই যন্ত্রণাকেই নিপুণ হাতে রূপ দিয়েছেন ক্যানভাসে।
১৯০৭ সালের ৬ জুলাই মেক্সিকোতে ফ্রিদা কাহলোর জন্ম। নাম রাখা হয়েছিল মাগদালেনা কারমেন ফ্রিদা কাহলো ই কালদেরন। পরে অবশ্য নিজের নাম ছোট করে রেখেছিলেন। চাইতেন সবাই জানুক তাঁর জন্ম ১৯১০ সালের ৬ জুলাই। কারণ ১৯১০ সালের মেক্সিকান বিপ্লবের সঙ্গেই সবাই যেন তাঁকে মনে রাখতে পারে। সমাজতন্ত্র অভিমুখী যে রাজনৈতিক যাত্রায় অগ্রসর হচ্ছিল মেক্সিকো, তার সঙ্গে একাত্ম ছিলেন তিনিও। বয়স বাড়লে হয়েছিলেন একনিষ্ঠ মার্ক্সিস্ট।

নিজের শরীর নিয়ে ফ্রিদার ছিল আজীবনের যুদ্ধ। বয়স যখন মাত্র ৬, তখন ডান পায়ে পোলিও ধরা পড়ে। ফলে তাঁকে ছোট থেকেই একটু খাটো ও রুগ্ণ ডান পায়ে খুঁড়িয়ে চলতে হতো। আর তা ঢেকে রাখতে তিনি পরতেন লম্বা, বিরাট ঘেরের মেক্সিকান স্কার্ট। ১৮ বছর বয়সে তাঁর ওপর দিয়ে আবারও ঝড় বয়ে যায়।
সেসময় ফ্রিদা মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। বাড়ি ফেরার পথে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘট্না। চলন্ত বাস আর ইলেকট্রিক ট্রলির সংঘর্ষে একটি স্টিলের রেলিং তাঁর তলপেট ফুঁড়ে ভেতরে ঢুকে যায়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার আর যন্ত্রণায় তাঁর জীবনটাই পুরো বদলে যায়। সারা শরীর প্লাস্টারে মুড়ে তাঁকে বিছানায় থাকতে হয় দীর্ঘকাল। ফ্রিদা বলেছিলেন, ‘যেন বিদ্যুৎ চমকের মতো সব বদলে গেল। আর আমি বরফের মতো কঠিন ও স্বচ্ছ এক ব্যথার গ্রহে এসে পড়লাম।’
এরপর যত দিন যায়, শারীরিক যন্ত্রণাই হয়ে ওঠে ফ্রিদার ছবির মূল ভাব, কেন্দ্রীয় চরিত্র ও এসথেটিক্স। ব্যথার মতো ভাষায় বর্ণনাতীত উপলব্ধিকে ফ্রিদা ব্যক্ত করেন ছবির ভাষায়। তিন মাস ঘরবন্দি থাকতে হয় তাঁকে। ছবি আঁকতে শুরু করেন। তাঁর মা খাটের সঙ্গে জুড়ে দেন বিশেষ ধরনের ইজেল, যাতে শুয়েই ছবি আঁকা যেত। বাবা ব্লাদিস্লাভ এনে দেন কিছু তেল রং আর তুলি। খাটের ওপরে একটি বড় আয়না লাগিয়ে দেওয়া হয়। যাতে তিনি নিজের মুখ দেখে সাজতে এবং আঁকতে পারেন।

এভাবে একা থাকতে থাকতে আয়নায় দেখা নিজের মুখই হয়ে উঠল তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়বস্তু। নিজের আঁকা ছবির সাবজেক্ট হয়ে উঠলেন নিজেই। ‘সেলফ ইন আ ভেলভেট ড্রেস’ আঁকেন ১৯২৬-এ। কাহলো লেখেন, ‘আমি নিজেকেই আঁকি, কেননা প্রায়ই আমি একা থাকি। আর সব বিষয়ের মাঝে নিজেকেই সবচেয়ে ভালো জানি।’
সেই দফায় আরোগ্য লাভের পর ফ্রিদা মেক্সিকান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিভেরার। ফ্রিদার প্রতিভা বুঝতে পেরে রিভেরা তাঁকে উৎসাহিত করতেন। তাঁদের এই পারস্পরিক বোঝাপড়া দ্রুত ভালোবাসায় রূপ নেয়। ১৯২৯ সালে মায়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিশ বছরের বড় দিয়েগো রিভেরার তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফ্রিদা। ফ্রিদার বাবা এই বিয়েকে বলেছিলেন ‘হাতি ও পায়রার বিয়ে’।
বিয়ের পরে ফ্রিদার ছবি আঁকার ভঙ্গিতে আসে পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী তেহুয়ানা পোশাক হয়ে ওঠে তাঁর ট্রেডমার্ক। এই পোশাকে ছিল ফুলেল পাগড়ি, ঢোলা ব্লাউজ, স্বর্ণালংকার এবং এলোমেলো ফোলা স্কার্ট। ‘ফ্রিদা অ্যান্ড দিয়েগো রিভেরা (১৯৩০)’ পেইন্টিং-এ মেক্সিকান লোকশিল্পের প্রতি ফ্রিদার আগ্রহের ব্যাপারটি প্রকাশ পায়।

ফ্রিদার জীবনে দিয়েগো রিভেরা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য নাম। তাঁর চিত্রকলা ও ব্যক্তিগত জীবন সবখানেই রিভেরা জড়িয়ে ছিলেন। তবে ফ্রিদা যতই সাফল্যের পথে পা বাড়ান, ততই বাড়তে থাকে দু’জনের দূরত্ব। রিভেরার নিজের কাজে মগ্ন থাকা, অন্য সম্পর্কে জড়ানো এবং দীর্ঘ সময় দূরে থাকার বিষয়টি তাঁদের দাম্পত্যে প্রভাব ফেলে। ভেতরে ভেতরে ভাঙতে থাকেন ফ্রিদা কাহলো। ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘আমার জীবনে দুর্ঘটনা এসেছে দুইবার। একটি হলো ট্রলি, আরেকটি দিয়েগো। এই দু’য়ের মধ্যে এখনো দিয়েগোই সবচেয়ে ভয়ানক।’ এরপর ১৯৩৯ সালে সম্পর্কের টানাপোড়েনে রিভেরার সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও ১৯৪০-এ তাঁরা আবার এক হন।
বিপ্লবের পর মেক্সিকোয় পুরুষ-অধ্যুষিত পরিবেশে ফ্রিদা হয়ে উঠেছিলেন নারীবাদী আইকন। স্বামীর পরিচয়ে পরিচিতি না হয়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজের পরিচয়, পেয়েছেন সাফল্য। সমাজ যেসব নারীকে ‘অসুন্দর’ মনে করে, তাদেরও নিজের ছবিতে স্বাধীন, আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ফ্রিদা কাহলোর প্রায় ২০০ চিত্রকর্মের মধ্যে ৫৫টিই ছিল আত্মপ্রতিকৃতি। তাঁর চিত্রকর্মে নারীর ‘নীরব’ প্রতিবাদ, সন্তান ধারণে অক্ষমতার বেদনা, শারীরিক যন্ত্রণা প্রকাশ পেয়েছে বারবার। ১৯৩২ সালে তিনি ‘হেনরি ফোর্ড হাসপাতাল’ চিত্রকর্মটি আঁকেন। ছবিটি তাঁর জীবনের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে আঁকা। হেনরি ফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাত হয়েছিল। সেই কষ্টের অভিজ্ঞতা ও মানসিক যন্ত্রণা ফ্রিদা এই চিত্রকর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া ফ্রিদা যে তেহুয়ানা নামের পোশাকটি পরতেন, এটিও ছিল মেক্সিকোর মাতৃতান্ত্রিক আদিবাসী গোষ্ঠীর নারীদের পোশাক। অর্থাৎ প্রতিদিনকার সাজপোশাকেও তিনি ফুটিয়ে তুলতেন নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং নারীর নিজস্ব শক্তি।

রবিঠাকুর লিখেছিলেন, ‘মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে, বাজিল বুকে সুখের মত ব্যথা।’ মেক্সিকান কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো যেন সেই ব্যথাকেই সুখের মতো বরণ করেছেন। চিত্রকলার ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী শিল্পী হলেন ফ্রিদা কাহলো। নিজের জীবন, সম্পর্ক-বিচ্ছেদ কিংবা ব্যথা-বেদনাকে তিনি ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন পরম মমতায়।
ফ্রিদা কাহলোর ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয়তায় ভরা। তাঁর আত্মপ্রতিকৃতিনির্ভর চিত্রকর্মগুলোর মধ্যে নারীর চিরায়ত ব্যথা, আবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার সম্পর্ক খুঁজে পান অনেকে। যদিও ফ্রিদা এঁকেছেন মূলত নিজেকেই। জীবনব্যাপী অবর্ণনীয় শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। আর সেই যন্ত্রণাকেই নিপুণ হাতে রূপ দিয়েছেন ক্যানভাসে।
১৯০৭ সালের ৬ জুলাই মেক্সিকোতে ফ্রিদা কাহলোর জন্ম। নাম রাখা হয়েছিল মাগদালেনা কারমেন ফ্রিদা কাহলো ই কালদেরন। পরে অবশ্য নিজের নাম ছোট করে রেখেছিলেন। চাইতেন সবাই জানুক তাঁর জন্ম ১৯১০ সালের ৬ জুলাই। কারণ ১৯১০ সালের মেক্সিকান বিপ্লবের সঙ্গেই সবাই যেন তাঁকে মনে রাখতে পারে। সমাজতন্ত্র অভিমুখী যে রাজনৈতিক যাত্রায় অগ্রসর হচ্ছিল মেক্সিকো, তার সঙ্গে একাত্ম ছিলেন তিনিও। বয়স বাড়লে হয়েছিলেন একনিষ্ঠ মার্ক্সিস্ট।

নিজের শরীর নিয়ে ফ্রিদার ছিল আজীবনের যুদ্ধ। বয়স যখন মাত্র ৬, তখন ডান পায়ে পোলিও ধরা পড়ে। ফলে তাঁকে ছোট থেকেই একটু খাটো ও রুগ্ণ ডান পায়ে খুঁড়িয়ে চলতে হতো। আর তা ঢেকে রাখতে তিনি পরতেন লম্বা, বিরাট ঘেরের মেক্সিকান স্কার্ট। ১৮ বছর বয়সে তাঁর ওপর দিয়ে আবারও ঝড় বয়ে যায়।
সেসময় ফ্রিদা মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। বাড়ি ফেরার পথে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘট্না। চলন্ত বাস আর ইলেকট্রিক ট্রলির সংঘর্ষে একটি স্টিলের রেলিং তাঁর তলপেট ফুঁড়ে ভেতরে ঢুকে যায়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার আর যন্ত্রণায় তাঁর জীবনটাই পুরো বদলে যায়। সারা শরীর প্লাস্টারে মুড়ে তাঁকে বিছানায় থাকতে হয় দীর্ঘকাল। ফ্রিদা বলেছিলেন, ‘যেন বিদ্যুৎ চমকের মতো সব বদলে গেল। আর আমি বরফের মতো কঠিন ও স্বচ্ছ এক ব্যথার গ্রহে এসে পড়লাম।’
এরপর যত দিন যায়, শারীরিক যন্ত্রণাই হয়ে ওঠে ফ্রিদার ছবির মূল ভাব, কেন্দ্রীয় চরিত্র ও এসথেটিক্স। ব্যথার মতো ভাষায় বর্ণনাতীত উপলব্ধিকে ফ্রিদা ব্যক্ত করেন ছবির ভাষায়। তিন মাস ঘরবন্দি থাকতে হয় তাঁকে। ছবি আঁকতে শুরু করেন। তাঁর মা খাটের সঙ্গে জুড়ে দেন বিশেষ ধরনের ইজেল, যাতে শুয়েই ছবি আঁকা যেত। বাবা ব্লাদিস্লাভ এনে দেন কিছু তেল রং আর তুলি। খাটের ওপরে একটি বড় আয়না লাগিয়ে দেওয়া হয়। যাতে তিনি নিজের মুখ দেখে সাজতে এবং আঁকতে পারেন।

এভাবে একা থাকতে থাকতে আয়নায় দেখা নিজের মুখই হয়ে উঠল তাঁর পর্যবেক্ষণের বিষয়বস্তু। নিজের আঁকা ছবির সাবজেক্ট হয়ে উঠলেন নিজেই। ‘সেলফ ইন আ ভেলভেট ড্রেস’ আঁকেন ১৯২৬-এ। কাহলো লেখেন, ‘আমি নিজেকেই আঁকি, কেননা প্রায়ই আমি একা থাকি। আর সব বিষয়ের মাঝে নিজেকেই সবচেয়ে ভালো জানি।’
সেই দফায় আরোগ্য লাভের পর ফ্রিদা মেক্সিকান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিভেরার। ফ্রিদার প্রতিভা বুঝতে পেরে রিভেরা তাঁকে উৎসাহিত করতেন। তাঁদের এই পারস্পরিক বোঝাপড়া দ্রুত ভালোবাসায় রূপ নেয়। ১৯২৯ সালে মায়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিশ বছরের বড় দিয়েগো রিভেরার তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফ্রিদা। ফ্রিদার বাবা এই বিয়েকে বলেছিলেন ‘হাতি ও পায়রার বিয়ে’।
বিয়ের পরে ফ্রিদার ছবি আঁকার ভঙ্গিতে আসে পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী তেহুয়ানা পোশাক হয়ে ওঠে তাঁর ট্রেডমার্ক। এই পোশাকে ছিল ফুলেল পাগড়ি, ঢোলা ব্লাউজ, স্বর্ণালংকার এবং এলোমেলো ফোলা স্কার্ট। ‘ফ্রিদা অ্যান্ড দিয়েগো রিভেরা (১৯৩০)’ পেইন্টিং-এ মেক্সিকান লোকশিল্পের প্রতি ফ্রিদার আগ্রহের ব্যাপারটি প্রকাশ পায়।

ফ্রিদার জীবনে দিয়েগো রিভেরা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য নাম। তাঁর চিত্রকলা ও ব্যক্তিগত জীবন সবখানেই রিভেরা জড়িয়ে ছিলেন। তবে ফ্রিদা যতই সাফল্যের পথে পা বাড়ান, ততই বাড়তে থাকে দু’জনের দূরত্ব। রিভেরার নিজের কাজে মগ্ন থাকা, অন্য সম্পর্কে জড়ানো এবং দীর্ঘ সময় দূরে থাকার বিষয়টি তাঁদের দাম্পত্যে প্রভাব ফেলে। ভেতরে ভেতরে ভাঙতে থাকেন ফ্রিদা কাহলো। ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘আমার জীবনে দুর্ঘটনা এসেছে দুইবার। একটি হলো ট্রলি, আরেকটি দিয়েগো। এই দু’য়ের মধ্যে এখনো দিয়েগোই সবচেয়ে ভয়ানক।’ এরপর ১৯৩৯ সালে সম্পর্কের টানাপোড়েনে রিভেরার সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও ১৯৪০-এ তাঁরা আবার এক হন।
বিপ্লবের পর মেক্সিকোয় পুরুষ-অধ্যুষিত পরিবেশে ফ্রিদা হয়ে উঠেছিলেন নারীবাদী আইকন। স্বামীর পরিচয়ে পরিচিতি না হয়ে তিনি তৈরি করেছেন নিজের পরিচয়, পেয়েছেন সাফল্য। সমাজ যেসব নারীকে ‘অসুন্দর’ মনে করে, তাদেরও নিজের ছবিতে স্বাধীন, আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ফ্রিদা কাহলোর প্রায় ২০০ চিত্রকর্মের মধ্যে ৫৫টিই ছিল আত্মপ্রতিকৃতি। তাঁর চিত্রকর্মে নারীর ‘নীরব’ প্রতিবাদ, সন্তান ধারণে অক্ষমতার বেদনা, শারীরিক যন্ত্রণা প্রকাশ পেয়েছে বারবার। ১৯৩২ সালে তিনি ‘হেনরি ফোর্ড হাসপাতাল’ চিত্রকর্মটি আঁকেন। ছবিটি তাঁর জীবনের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে আঁকা। হেনরি ফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাত হয়েছিল। সেই কষ্টের অভিজ্ঞতা ও মানসিক যন্ত্রণা ফ্রিদা এই চিত্রকর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া ফ্রিদা যে তেহুয়ানা নামের পোশাকটি পরতেন, এটিও ছিল মেক্সিকোর মাতৃতান্ত্রিক আদিবাসী গোষ্ঠীর নারীদের পোশাক। অর্থাৎ প্রতিদিনকার সাজপোশাকেও তিনি ফুটিয়ে তুলতেন নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং নারীর নিজস্ব শক্তি।
.png)

কোনো সমাজে একজন প্রকৃত চিন্তাবিদের উপস্থিতি প্রতিদিন চোখে পড়ে না। তিনি নীরবে মানুষের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করেন, প্রশ্ন করার সাহস জোগান, যুক্তিবোধকে শানিত করেন। তাঁর কাজের প্রকৃত গুরুত্ব অনেক সময় বোঝা যায় তাঁর অনুপস্থিতিতে।
৪ ঘণ্টা আগে
ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশরা কাঁঠালকে শুধু একটি ফল হিসেবে দেখেনি; সস্তায় দাস ও শ্রমিকদের পুষ্টি জোগানোর সম্ভাব্য খাদ্যসম্পদ হিসেবেও বিবেচনা করেছিল। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমশক্তিকে টিকিয়ে রাখার অর্থনৈতিক প্রয়োজন থেকেই কাঁঠালের মতো সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফলের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
৪ ঘণ্টা আগে
তখন আমি কলেজবর্ষীয় তরুণ। থাকি একটা সাদামাটা মফস্বলে। কবিতা লিখি। বই পড়ি। আমাদের সেই গরিব শহরে সাম্প্রতিক বইপুস্তক পাওয়া ছিল বিস্ময়কার ঘটনা। একদিন খুব আচমকাই শহরতুতো সম্পর্কের এক অগ্রজের কাছে পেয়েছিলাম একটি পত্রিকা, নাম ‘লোকায়ত’। সম্পাদক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
১ দিন আগে
মেরি কুরি। প্রথম নারী নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর দ্বিতীয়বার ভিন্ন শাখায় নোবেল জিতে তিনি হয়ে ওঠেন বিজ্ঞানের জগতে বিরল কিংবদন্তি। গতকাল ছিল মহান এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুবার্ষিকী।
০৫ জুলাই ২০২৬